সমাজ পরিবর্তনের দিশায় যাঁরা রাজনীতি করতে আসেন, তাঁদের প্রত্যেকেরই লক্ষ্য থাকে এমন আন্দোলনে অংশ নেওয়া যা বৃহত্তর জনসমাজকে নাড়িয়ে দিতে এবং সমাজকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে একটা ছাপ রেখে যেতে সক্ষম। সম্ভাবনা সবসময় যে বাস্তবের রূপ পাবেই এরকম না হলেও, কোন স্ফুলিঙ্গ যে দাবানলের রূপ নেবে তা আগাম বলা যায় না। কিন্তু অবশ্যই পরিস্থিতি ও বাস্তবতার একটা বস্তুনিষ্ঠ বিশ্লেষণের দাবী সবসময়েই থাকে, যা নিয়েই এই লেখা।
আজ থেকে ১৫ বছর আগে একটা সময় এসেছিল, যখন বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল (সেজ) তৈরির জন্য জোর করে জমি অধিগ্রহণের বিরুদ্ধে সিঙ্গুর, নন্দীগ্রামের জমি রক্ষার লড়াই গোটা দেশকে নড়িয়ে দিয়েছিল। যে সিপিএম পার্টিকে মনে করা হত দণ্ডমুন্ডের কর্তা, যার সায় ছাড়া বাংলার কোনো গাছের পাতাও নড়তো না, সেই সিপিএমকে ইতিহাসের ডাস্টবিনে ছুঁড়ে ফেলার রাস্তা দেখিয়েছিল নন্দীগ্রাম, লালগড়, সিঙ্গুরের মানুষের লড়াই। সাথে সাথে উজ্জীবিত করেছিল গোটা দেশের সেজ বিরোধী সংগ্রামকে। কলিঙ্গ নগর, নারায়ণপাটনা থেকে বিশাখাপত্তনম, দেশের প্রতিটি অঞ্চল, যেখানে যেখানে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ার প্রজেক্ট ছিল, সব জায়গায় জনগণের প্রতিরোধ সংগ্রাম ফেটে পড়ে। দেশজুড়ে হাজারে হাজারে সেজ গঠন, ভূমিসন্তানদের জমি থেকে উচ্ছেদ করার, উৎখাত করার চক্রান্ত সাময়িকভাবে হলেও বন্ধ হয়ে যায়, শাসকেরা ইংরেজ আমলের জমি অধিগ্রহণ আইন পাল্টাতে বাধ্য হয়। এই যে গোটা দেশব্যাপী উচ্ছেদ বিরোধী, জবরদস্তি জমি অধিগ্রহণ বিরোধী সংগ্রাম তাতে একটা রাজনৈতিক শক্তি নিজেদের জীবন পণ রেখে লড়াই করেছিল, রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের মুখে দাঁড়িয়ে জীবন দিয়েছিল, জেল খেটেছিল। তবেই জনগণের প্রতিরোধ সংগ্রাম স্বতস্ফূর্ততার স্তর পেরিয়ে এক সুসংগঠিত চেহারা নিতে পেরেছিল।
২০১১ সালে বাংলায় সরকার পরিবর্তন হয়। বিরোধী থাকাকালীন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সিঙ্গুরের সংগ্রামে অংশ নেন, নন্দীগ্রাম, লালগড় সংগ্রামের পাশে দাঁড়ান। অবশ্যই তার কোনো জনহিতৈষী ভাবনা ছিল না, ভাবনা ছিল এই গণ আন্দোলনগুলির ঘাড়ে ভর করে ক্ষমতায় আসার স্বপ্নকে সত্যি করা। তবে ক্ষমতায় আসার পরও, তার যেহেতু সিপিএম এর পরিণতি খুব কাছ থেকে দেখার সুযোগ হয়েছিল, সেই কথা মাথায় রেখে হুডুমতাল করে, গা জোয়ারী করে জমি দখলের দিকে তিনি এগোন নি। বরং অনেক কৌশলে খেলা শুরু করেন তিনি। একদিকে সিঙ্গুরের টাটার কারখানার জন্য অধিগৃহীত জমি, যা চাষাবাদের অনুপযুক্ত হয়ে পড়ে আছে, তা কৃষকদের ফেরত দিয়ে নিজের জমি দখল বিরোধী ইমেজকে বজায় রাখেন। অন্য দিকে সিপিএম আমলে যে বিশাল পরিমাণ জমি বিভিন্ন জায়গায় অধিগ্রহণ করা হয়ে পড়েছিল, রাজারহাট, নিউটাউন, হাওড়ার ধূলাগড়, উলুবেড়িয়া, বীরশিবপুর, খড়গপুর, লোধাগুলি, হুগলীর ডানকুনি এক্সপ্রেসওয়ের ধারের বিস্তৃর্ণ জমি, কল্যাণী, জাগুলি, জলপাইগুড়ির ডাবগ্রাম, ফুলবাড়ি ইত্যাদি বিভিন্ন স্থানের জমি ইনফোসিস, অ্যামাজন, ফ্লিপকার্ট, ই-কার্ট, রিলায়েন্স, রেশমি গ্রুপ, গোদরেজ, স্টার সিমেন্ট প্রভৃতি কর্পোরেটদের হাতে তুলে দিতে থাকেন। বোলপুর থেকে নোনাডাঙ্গা, শিলিগুড়ির মাটিগাড়া, বাইপাস, কলকাতার ইস্টার্ন বাইপাসের বিশাল পরিমাণ এলাকা রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ীদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। আলিপুর অঞ্চলটি থেকে জেল, কোর্ট, ডি এম অফিস, চিড়িয়াখানা সবকিছুকে বারুইপুরে সরিয়ে আলিপুর এরিয়া ডেভলপমেন্ট অথরিটি নামে একটি সংস্হার ব্যানারে কয়েক হাজার কোটি টাকার মেগা সিটি প্রকল্প চালু করার তোড়জোড় চলছে।
সিঙ্গুরের কৃষকরা জমি ফেরত নিয়েও আজ ১০ বছর ধরে ল্যাজেগোবরে অবস্থা, কারণ ঐ জমিতে তারা এক দানাও শস্য চাষ করতে পারছেন না। সরকারী ভর্তুকি এবং দু টাকা কিলো চালের ওপর তাদের জীবন চলছে। নোনাডাঙ্গায় উচ্ছেদ বিরোধী সংগ্রাম কিছুটা পরিমাণে দানা বাঁধতে শুরু করার সাথে সাথেই ধরপাকড় শুরু করে দেয় পুলিশ, একজনকে ইউএপিএ, একজনকে রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা দিয়ে এবং বাকিদের কয়েক দিন করে জেল খাটিয়ে শাসনের শুরুতেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট করে দেন যে তার রাজত্বে ‘গণতান্ত্রিক ধ্যাস্টামো’-র পরিসর খুব কমই থাকবে। লালগড় আন্দোলন ধ্বংস হবার পর শালবনীতে জিন্দালদের কারখানা শুরু হয়, তবে লৌহ ইস্পাত কারখানা না করে, তারা অল্প জমির ওপর একটা সিমেন্ট কারখানা করেছে আর বাকি জমিটা নিজেদের কব্জায় রেখে দিয়েছে। পোড়াঝাড় কাওয়াখালি তে উপনগরী তৈরির কাজ দিব্যি চলছে, ওখানে বর্ধিত ক্ষতিপূরণের দাবিতে আন্দোলন এখনও চললেও, তা আনুষ্ঠানিকতায় পরিণত হয়েছে। একইভাবে বোলপুরেও বেশি ক্ষতিপূরণের দাবিতে আন্দোলন কিছু দিন চললেও, সময়ের সাথে সাথে অনুব্রত-র চোখরাঙানী ও রাষ্ট্রীয় চাপের সামনে চুপচাপ হয়ে গেছে। ভাবাদিঘীতেও আন্দোলন দানা বাঁধতে শুরু করার সাথে সাথে নেতৃত্বকে মিথ্যা মামলা দিয়ে কিছু দিন জেল খাটিয়ে দেওয়া হয়। সাম্প্রতিক কালের মধ্যে সবচেয়ে তীব্র আন্দোলন গড়ে ওঠে ভাঙড়ে, পাওয়ার গ্রীড স্থাপনের বিরুদ্ধে। ভাঙড় সিপিএম শাসনে সিপিএম এর নেতাদের দাদাগিরি সহ্য করেছে, সেখানে বন্দুকের নলের মুখে জমি দখল করা হয়েছে, চাষ জমিকে মাছ চাষের ভেড়িতে রূপান্তর করা হয়েছে। তৃণমূল জমানাতেও একই ট্র্যাডিশন অক্ষুণ্ণ থেকেছে। অত্যাচার সহ্য করতে করতে মানুষের সহ্যের সীমা অতিক্রম করে গিয়েছিল, তারা পাওয়ার গ্রীড স্থাপনের পরিকল্পনার বিরুদ্ধে স্বতস্ফূর্ত প্রতিবাদে নামেন। তৃতীয় ধারার কোনো কোনো রাজনৈতিক শক্তি তাদের সেই লড়াইয়ের পাশে দাঁড়ান এবং নেতৃত্ব দেন। তৃণমূলের গুন্ডা বাহিনী ও পুলিশের সাথে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়, আন্দোলনকারী জনতা শহিদ হন, গ্রেফতার হয়ে ইউএপিএ ধারায় জেলবন্দী হন। কিন্তু লড়াইয়ের দিশা কি হবে, অভিমুখ কি হবে, কতদিন ধরে রাষ্ট্রের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে লড়াই করা যাবে ইত্যাদি প্রশ্নে নেতৃত্বকারী অংশের কোনো স্পষ্ট ধারণা ছিল না। ফলে নিজেদের ‘মুক্তি’ এবং কিছু ‘ডোল’ এর বিনিময়ে তারা আন্দোলনকে এক অর্থে প্রত্যাহার করে নেন।
বর্তমানে এক বৃহৎ মাত্রায় জমি অধিগ্রহণের পরিকল্পনা শুরু হয়েছে বীরভূম জেলার মহম্মদ বাজার ব্লকের দেউচা পাচামী অঞ্চলে। বলা হচ্ছে, সেখানে মাটির নিচে উৎকৃষ্ট মানের কয়লা রয়েছে, সেই কয়লা তোলার জন্য খোলা মুখ খনি খননের জন্য জমি লাগবে। ওখানকার স্থায়ী বাসিন্দা আদিবাসী মানুষদের মতামতের কোনো রকম তোয়াক্কা না করে, পরিবেশ, জীব বৈচিত্র্য, খোলা মুখ খনির দূষণ সবকিছুকে অগ্রাহ্য করে দলীয় গুন্ডা বাহিনী এবং পুলিশকে ব্যবহার করে জমি কেড়ে নেওয়া শুরু হয়েছে। যারা বিরোধিতা করছে তাদের ওপর হামলা, মামলা, দমনপীড়নও ইতিমধ্যে চালু হয়ে গেছে। ১১-টি গ্রামের প্রায় ৩৩০০ একর জমি অধিগ্রহণ করার কথা হয়েছে। সিপিএম এর মতো টাটা বা সালেম গোষ্ঠীর জন্য জমি অধিগ্রহণ করার ভুল না করে, সরকার এখানে সরাসরি জমি কিনছে। তারপর তারা তাদের সুবিধামত শিল্পপতিদের জমি বিক্রি করবে। ৪৫০০ পরিবারের প্রায় ২১৫০০ জন সদস্য এর ফলে ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদ হবেন। তাদের জন্য জমি পিছু আর্থিক ক্ষতিপূরণ, পরিবার পিছু একজন করে পুলিশে চাকরি এবং ৬০০ বর্গ ফুটের ঘর করে দেবার প্রতিশ্রুতি সরকার দিয়েছে। খাদান মালিক, ক্রাশার ও খাদান শ্রমিকদের জন্যও ক্ষতি পূরণের প্যাকেজে কিছু প্রতিশ্রুতি আছে। যাদের উচ্ছেদ করার কথা বলা হচ্ছে, তাদের সিংহভাগই আদিবাসী, দলিত এবং ধর্মীয় সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর মানুষ। তাদেরকে তাদের ভিটেমাটি থেকে সরিয়ে ঘেটোর মধ্যে আবদ্ধ করার চেষ্টা এটা, তাদের সংস্কৃতি, পরিচয়কে ধ্বংস করা হবে এভাবে। পরিবেশ গত ক্ষয়ক্ষতির কোন মূল্যায়ন এই প্রকল্পে করা হয়নি। সর্বোপরি, বিশেষজ্ঞদের মত অনুসারে কঠিন ব্যাসল্টের স্তরের অনেক নিচে কয়লা সঞ্চিত রয়েছে এখানে। ব্যাসল্টের স্তর ভেদ করে কয়লা তোলার জন্য যে মেশিন প্রয়োজন, তা এদেশে পাওয়া যায় না, বিদেশ থেকে আনতে হবে। ফলে আদৌ এই প্রকল্প বাস্তবে কতটা সম্ভব, কতটা লাভজনক, সেই প্রশ্ন তো আছেই। এই সম্ভাবনাও থেকে যায়, প্রশাসনিক ক্ষমতা, পুলিশ, গুন্ডা বাহিনীকে ব্যবহার করে মানুষের অপরিসীম দারিদ্র্যকে কাজে লাগিয়ে জমি দখলে নিয়ে, মাটির উপরের স্তরে থাকা ব্যাসল্ট লুঠপাট শুরু হলো।
২০০৮-০৯ সালে, যখন লালগড় আন্দোলন চলছিল, সেই সময় মহম্মদবাজার সহ বীরভূমের এক বড় অংশে আদিবাসী সংগঠনের নেতৃত্বে খাদান ও ক্রাশার বিরোধী আন্দোলন গড়ে ওঠে, যে আন্দোলনের মধ্য দিয়ে আদিবাসী মানুষদের আর্থসামাজিক বঞ্চনা, জাতিগত আত্মপরিচয় ও মর্যাদার প্রশ্নটিও সামনে উঠে এসেছিল। পরবর্তীতে আন্দোলন দিশা হারায়, আন্দোলনের নেতৃত্ব ক্ষমতার সাথে আপোষ করে নিজেদের আখের গুছিয়ে নেয়। আজও তারা কেন্দ্র বা রাজ্যের শাসক দলের সাথেই যুক্ত রয়েছেন। আজ যখন জমি থেকে উচ্ছেদের প্রশ্নটা এসে গেছে, দেখা যাচ্ছে যে ঐ গ্রামগুলোর অধিকাংশ বাসিন্দারাই জমি ছেড়ে দেবার পক্ষে নেই, বরং তারা জমি রক্ষার জন্য ইতিমধ্যে আন্দোলনের পথে হাঁটা শুরু করেছেন। তাদের মধ্য থেকেই নতুন নেতৃত্বও উঠে আসছেন। জনসমর্থন এবং জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ এই উচ্ছেদ বিরোধী আন্দোলনের সবচেয়ে বড় ইতিবাচক দিক, যা এক সম্ভাবনার আলো দেখায়।
কিন্তু পাশাপাশি কিছু প্রশ্ন এবং আশঙ্কাও থেকে যাচ্ছে। ওখানকার স্থানীয় মানুষের আন্দোলনের পাশে দাঁড়িয়ে তাকে দিশা দেখানোর মতো কোনো রাজনৈতিক শক্তি নেই। ২০০৬-১১ পর্যায়ে যে রাজনৈতিক শক্তি এক শক্তিশালী মতাদর্শে ভর করে উচ্ছেদের বিরুদ্ধে, জমি রক্ষার দাবিতে, রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে, আদিবাসী জনগোষ্ঠীর আত্ম-মর্যাদা, আত্ম-পরিচয়, আত্ম-নির্ভরশীলতার দাবিতে নিজেদের জীবন উৎসর্গ করে সংগ্রাম চালিয়েছিল, তারা আজ এক নৈতিকভাবে অধঃপতিত লুম্পেন শক্তিতে পরিণত হয়েছে। সংগ্রাম দূরের কথা, সাধারণ প্রতিবাদ করবার মতো ক্ষমতা এবং যোগ্যতা তাদের নেই। ফলে তাদের কাছ থেকে কোনোকিছু প্রত্যাশা রাখবার অবকাশ নেই। সংসদীয় বিরোধী, বিশেষ করে বিজেপি এবং সিপিএম এর বক্তব্য যে আরও আগে জমি অধিগ্রহণ করে শিল্প গড়া শুরু হলো না কেন; বিশেষ করে সিঙ্গুরের জমি কেন টাটা-কে দেওয়া গেল না। এসইউসিআই শুধু খোলা মুখ খনির পরিবর্তে টানেল কেটে খনন করা হোক বলেই তাদের দায় সেরেছে। ফলে এরা যে মানুষের ন্যায়সঙ্গত আন্দোলনের পাশে থাকবে না (কোনো দিন থাকেও নি) সেটা পরিষ্কার। বাকি যে তৃতীয় ধারার রাজনৈতিক শক্তিগুলো, তাদের সাংগাঠনিক ক্ষমতাও খুব সীমিত, আর এই ধরনের আন্দোলনকে নেতৃত্ব দিতে গেলে যে ধরনের কমিটেড ক্যাডার ফোর্স প্রয়োজন, সেটাও তাদের কতটা আছে এবং এই সংগ্রাম যা সময়ের সাথে সাথে রাষ্ট্রবিরোধী রূপ ধারণ করতে বাধ্য, সেই পথে তারা কতদূর এগোবেন, এইসব প্রশ্নগুলো খুব স্বাভাবিকভাবেই চলে আসে। অনেক সংগঠনই নিজেদের মতো করে ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং করেছেন, শহরের বুকে কনভেনশন, প্রকাশ্য সভা, জাঠা ইত্যাদিগুলিও সংগঠিত করার উদ্যোগ নিচ্ছেন। কিন্তু আসল লড়াই তো জমিতে দাঁড়িয়ে হবে। সেটার ভবিষ্যৎ কি দাঁড়ায়, তা দেখার জন্য আমাদের অপেক্ষা করতে হবে।
আজ যে দলই সরকারে থাকুক, কর্পোরেটের স্বার্থবাহী জনবিরোধী নীতিগুলিকে রূপায়ণের বিষয়ে এবং প্রতিবাদী কণ্ঠস্বরকে দমনের প্রশ্নে তাদের মধ্যে কোনো ফারাক খুঁজে পাওয়া যাবে না। ফলে এই রকম পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রের আদর্শে উদ্বুদ্ধ এক সুসংগঠিত কর্মীবাহিনী ভিত্তিক সংগঠন গড়ে তোলা না গেলে শাসকের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ফলপ্রসূ কোনো প্রতিরোধ গড়ে তোলা সম্ভব নয়। এই বিষয়টি মাথায় রেখেই সংগঠন মজবুত করার জন্য চেষ্টা চালাতে হবে।
লেখাটি প্রকাশিত হয় আজাদ গণ মোর্চা-র মুখপত্র মাতৃভূমি পত্রিকার ফেব্রুয়ারি ২০২২ সংখ্যায়
কভার ফটো সৌজন্যে – https://eisamay.com/west-bengal-news/bolpur-news/deucha-panchami-locals-protest-against-coal-project/articleshow/90924788.cms [Retrieved On: 16/05/2023]
