লেবার কোড বাতিল সহ কেন্দ্র সরকারের বিভিন্ন জনবিরোধী নীতির বিরুদ্ধে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬-এর ধর্মঘটকে সম্পূর্ণ সফল করুন।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারী ১০-টি কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়ন দেশব্যাপী ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে। চারটি শ্রম আইন বাতিল করার মূল দাবি ছাড়াও প্রস্তাবিত খসড়া বীজ বিল, ইলেক্ট্রিসিটি অ্যামেন্ডমেন্ট অ্যাক্ট বাতিল করার দাবিও রাখা হয়েছে। ১০০ দিনের কাজের প্রকল্প (এমজিনারেগা) বন্ধ করে কেন্দ্র সরকার নতুন যে প্রকল্প ‘ভি বি- জি রাম’ শুরু করতে চাইছে, তা যে একপ্রকার ভাঁওতাবাজি – সেই উল্লেখও ধর্মঘট আহ্বানকারী ট্রেড ইউনিয়নগুলো করেছে। সংযুক্ত কিষাণ মোর্চা এবং ব্যাঙ্ক কর্মচারীদের সংগঠন এই ধর্মঘটকে সমর্থন জানিয়েছে। আরও বিভিন্ন ট্রেড ইউনিয়ন, ছাত্র যুব সংগঠন, কর্মচারী, নারী সংগঠনও এই ধর্মঘটকে সমর্থন করেছেন। কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়নগুলোর নেতৃত্বের দাবী দেশের ৬০০-টা জেলার প্রায় ৩০ কোটি শ্রমজীবী মানুষ এই ধর্মঘটে অংশগ্রহণ করবেন। অতীতে কোন ধর্মঘট এত সর্বব্যাপী হয় নি।
আমরা, আজাদ গণ মোর্চা র পক্ষ থেকে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারীর ধর্মঘটকে সমর্থন জানাচ্ছি এবং জনগণের কাছে আহ্বান রাখছি এই ধর্মঘট সফল করার জন্য। যে যে দাবীগুলোতে এই ধর্মঘট ডাকা হয়েছে, সেগুলো প্রকৃতপক্ষে জনগণের দাবী, শ্রমজীবী মানুষ – কৃষকদের দাবী। সেই কারণেই আমরা সর্বতোভাবে এই দাবীগুলোকে সমর্থন করছি।
কিন্তু যে ট্রেড ইউনিয়নগুলো মূলত এই ধর্মঘট ডেকেছে, তার মধ্যে অন্যতম হল আইএনটিইউসি এবং সিটু, অর্থাৎ কংগ্রেস এবং সিপিআইএম-এর ট্রেড ইউনিয়ন। কর্ণাটকে বর্তমানে কংগ্রেস সরকার চালাচ্ছে, সেখানে কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকারের শ্রম কোড কে পুরোপুরি গ্রহণ করা হয়েছে এবং রাজ্য সরকার শ্রম কোডের যে রাজ্য আইন তৈরী করেছে, তা কেন্দ্রীয় শ্রম কোডের চেয়েও কঠোর এবং শ্রমিক বিরোধী, যার বিরুদ্ধে সেখানে শ্রমিকরা প্রতিবাদ জানাচ্ছেন।
একই ভাবে কেরালায় সিপিআইএম নেতৃত্বাধীন সরকার কিভাবে আদানী গোষ্ঠী সহ অন্যান্য কর্পোরেটদের তোষণ করে চলেছে এবং সাধারণ মানুষ, মৎসজীবী সহ শ্রমিকদের ওপর অত্যাচার চালাচ্ছে ও তাদের অধিকার খর্ব করছে, সেটা কিন্তু আমরা সবাই প্রত্যক্ষ করছি।
শাসকশ্রেণীর রাজনৈতিক দলগুলো এবং তাদের প্রভাবাধীন ট্রেড ইউনিয়নগুলো যে দীর্ঘদিন ধরে শ্রমিক আন্দোলনের পিছনে ছুরি মেরে আসছে তা আজ শ্রমিকরা খুব ভালো করেই জানে। ফলে দাবীগুলোর প্রতি সমর্থন থাকলেও, আগামীদিনে যদি ধারাবাহিক এবং শক্তিশালী শ্রমিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হয়, তাহলে শাসকশ্রেণীর রাজনৈতিক দলগুলোর শ্রমিক সংগঠনের প্রভাব থেকে শ্রমিকদের বড় অংশকে মুক্ত করে আনতে হবে এবং শ্রমিক শ্রেণীর অধিকার ও রাজনৈতিক সত্ত্বার জন্য কাজ করবে এমন ট্রেড ইউনিয়নে তাদের সংগঠিত করার চেষ্টা করতে হবে। তবেই শাসকশ্রেণীর, কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারগুলোর জনবিরোধী, শ্রমিক বিরোধী নীতিগুলোর বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
সংগ্রামী অভিনন্দন সহ
আজাদ গণ মোর্চা
১০/০২/২০২৬
কভার ফটো সৌজন্যে – https://www.linkedin.com/pulse/reason-impact-types-labor-strike-dipak-wani-udxxf [Retrieved On: 22/01/2026]

One thought on “আগামী ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬-এর ধর্মঘটকে সম্পূর্ণ সফল করুন”