লেখাটি প্রকাশিত হয় আজাদ গণ মোর্চা-র মুখপত্র মাতৃভূমি পত্রিকার
অগাস্ট ২০২৫ সংখ্যায়
ভূমিকা
প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরোর ১৬ই জুন, ২০২৫ এর প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী মোট জিডিপি (GDP: Gross Domestic Product)-এর হিসাবে জাপানকে ছাড়িয়ে ভারত এখন বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম দেশ (প্রথম: আমেরিকা, দ্বিতীয়: চীন, তৃতীয়: জার্মানী)। শুধু তাই নয়, ভারতের জিডিপি বৃদ্ধির হার বিশ্বের বৃহৎ (মোট জিডিপির হিসাবে) দেশগুলির মধ্যে সর্বাধিক (প্রায় ৬.৫%)। ফলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে ভারত জার্মানীকেও টপকে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম দেশ হতে চলেছে। আরও খুশির খবর হিসাবে জানানো হয়েছে যে মোদী সরকারের সময় ভারতের মোট রপ্তানি এবং সরাসরি বিদেশী বিনিয়োগ (FDI: Foreign Direct Investment) যথেষ্ট বেড়েছে। ডিজিটাল লেনদেন বহুগুণ বেড়ে গেছে। উৎপাদনের সঙ্গে সংযুক্ত ইনসেন্টিভ (PLI: Production Linked Incentive) স্কিম এর জন্য উৎপাদন বেড়েছে, বিশেষত ক্ষুদ্র ও মাঝারি (MSME) শিল্পক্ষেত্রে। গুরুত্বপূর্ণভাবে কমেছে মূল্যবৃদ্ধির হার। সুতরাং, ‘আচ্ছে দিন’ শুরু হয়ে গেছে, এবং ২০৪৭ সালের মধ্যে ভারত এক উন্নত দেশ হিসাবে (Vikshit Bharat) বিশ্বের দরবারে প্রতিষ্ঠিত হবে। এসব শুনে অনেক সাধারণ মানুষেরই তাক লেগে যাচ্ছে। কিন্তু ভালো করে বিশ্লেষণ করলে বোঝা যাবে যে এগুলো শুধুই অর্ধসত্য। এই লেখাটি তারই কিছু কিছু অংশ তুলে ধরার চেষ্টা করেছে।
ভারতের জিডিপি কি সত্যিই ক্রমবর্ধমান?
২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে মাতৃভূমি পত্রিকায় প্রকাশিত হয় এই প্রবন্ধের প্রথম কিস্তি। তখন ভারতের জিডিপি ব্রিটিশ যুক্তরাষ্ট্রের জিডিপি-কে ছাড়িয়ে বিশ্বে পঞ্চম স্থান করে নিয়েছিল। জিডিপি বৃদ্ধির হার তখন ছিল প্রায় ৭%। সেই লেখাটিতে কয়েকটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সামনে রাখা হয়।
প্রথমত, মোট জিডিপি থেকে আয়ের বণ্টন সম্পর্কে বোঝা যায় না। অর্থাৎ, সমাজের সকল স্তরের মানুষের আয় বেড়েছে কিনা তা বলা যায় না।
দ্বিতীয়ত, আলোচনা থেকে সামনে আসে যে জিডিপি গণনার মধ্যে যথেষ্ট রাজনৈতিক অভিসন্ধি রয়েছে। জিডিপি গণনার জন্য বিজেপি সরকার IIP (Index of Industrial Production) সিরিজের বদলে MCA (Ministry of Corporate Affairs) ২১-এর সিরিজ তথ্য ব্যবহার করা শুরু করে এবং দেখায় যে ইউপিএ-র থেকে এনডিএ-র সময়ে জিডিপি বৃদ্ধির হার বেশি হয়েছে। অথচ MCA সিরিজে এমন অনেক সব কোম্পানির আয় দেখানো হয়েছে যেগুলোর বাস্তবে কোনও অস্তিত্ব নেই। অনেক অর্থনীতিবিদ এগুলোকে বলেছেন ভূতুরে কোম্পানি (Ghost Company)।
তৃতীয়ত, প্রধানমন্ত্রীর দাবি অনুযায়ী ২০২৯ সালের মধ্যে ভারতের মোট জিডিপি ৫ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে। কিন্তু তা হতে গেলে ভারতের জিডিপি বৃদ্ধির হার প্রায় ১২%-এরও বেশি হতে হবে। যেখানে বর্তমান জিডিপি বৃদ্ধির হার মাত্র ৬.৫%।
চতুর্থত, মোট জিডিপি বেশি হলেও মাথাপিছু গড় আয় হিসাবে ভারতের স্থান ছিল বিশ্বে ১৪৯-তম (২০২২ সালে)। পঞ্চমত, দেশে যে হারে জনসংখ্যা বৃদ্ধি হয়েছে, সেই হারে কর্মসংস্থানের বৃদ্ধি হয়নি। তাই ভারতের অর্থনৈতিক অগ্রগতিকে ‘কর্মহীন অগ্রগতি’ (Jobless Growth) বলে বর্ণনা করেছিলেন অধ্যাপক অশোক মোদী।
ভারতের মোট জিডিপি এবং মাথাপিছু আয়
প্রথমেই এটা বলা দরকার যে মোট জিডিপির হিসাবে ভারত এখনও জাপানকে ছাড়িয়ে যায়নি। ইন্টারন্যাশনাল মানিটারি ফান্ড (IMF)-এর ২০২৫ এর পূর্বাভাষ অনুযায়ী ভারত প্রায় মাথায় মাথায় জাপানকে ছাড়িয়ে যাবে (ভারতের মোট জিডিপি: ৪.১৮৭ ট্রিলিয়ন ডলার, জাপানের: ৪.১৮৬ ট্রিলিয়ন ডলার)। যদিও ওয়ার্ল্ড ব্যাঙ্ক এর হিসাব (২০২৪) অনুযায়ী ভারতের মোট জিডিপি ৩.৯১২ ট্রিলিয়ন ডলার, আর জাপানের ৪.০২৬ ট্রিলিয়ন ডলার (টেবিল ১), তবে অবশ্যই এটা বলা যেতে পারে যে, জাপানের জিডিপি বৃদ্ধির হার যেভাবে সংকুচিত হচ্ছে, সেটা ধরলে মোট জিডিপির হিসাবে ভারত অবশ্যই নিকট ভবিষ্যতে জাপানকে ছাড়িয়ে যাবে।
টেবিল ১: দেশ অনুযায়ী মোট জিডিপি (US ট্রিলিয়ন ডলার)
| দেশ | IMF-এর পূর্বাভাষ (২০২৫) | ওয়ার্ল্ড ব্যাঙ্ক-এর হিসাব (২০২৪) | স্থান / র্যাঙ্ক (২০২৫) |
| আমেরিকা | ৩০.৫০৭ | ২৯.১৮৪ | ১ |
| চীন | ১৯.২৩১ | ১৮.৭৪৩ | ২ |
| জার্মানী | ৪.৭৪৪ | ৪.৬৫৯ | ৩ |
| ভারত | ৪.১৮৭ | ৩.৯১২ | ৪ |
| জাপান | ৪.১৮৬ | ৪.০২৬ | ৫ |
এবার একটু দেখে নেওয়া যাক যে মাথা পিছু গড় জিডিপি হিসাবে বিশ্বের বৃহৎ দেশগুলির সাপেক্ষে ভারতের অবস্থান কীরকম (টেবিল ২)।
টেবিল ২: দেশ অনুযায়ী মাথা পিছু গড় জিডিপি (US ডলার)
| দেশ | IMF-এর পূর্বাভাষ (২০২৫) | ওয়ার্ল্ড ব্যাঙ্ক-এর হিসাব (২০২৪) | স্থান / র্যাঙ্ক (২০২৫) |
| আমেরিকা | ৮৯,১০৫ | ৮৫,৮১০ | ৭ |
| চীন | ১৩,৬৮৭ | ১৩,৩০৩ | ৭০ |
| জার্মানী | ৫৫,৯১১ | ৫৫,৮০০ | ১৭ |
| ভারত | ২,৮৭৮ | ২,৬৯৭ | ১৩৭ |
| জাপান | ৩৩,৯৫৬ | ৩২,৪৭৬ | ৩৪ |
সুতরাং, দেখা যাচ্ছে যে মোট জিডিপির হিসাবে ভারতের অবস্থান অনেক আগে থাকলেও, মাথা পিছু গড় জিডিপির হিসাবে ভারতের অবস্থান বিশ্বের প্রধান অর্থনীতিগুলোর মধ্যে সর্বনিম্নই (১৩৭-তম) আছে।
আর্থিক অসাম্য
মাথাপিছু গড় জিডিপিও দেশের মানুষের মাথাপিছু আয়কে সঠিকভাবে চিত্রিত করতে পারবে না, যদি দেশের মধ্যে আর্থিক অসাম্য খুব বেশি হয়ে থাকে। Oxfam-এর ২০২১ সালের রিপোর্ট অনুযায়ী ভারতের প্রথম (সবচেয়ে ধনী) ১% মানুষ দেশের প্রায় ৪১% সম্পদের মালিক, আর সর্বনিম্ন (গরীব) ৫০% মানুষ মাত্র ৩% সম্পদের মালিক। সম্প্রতি প্রকাশিত Blume Ventures-এর ‘Indus Valley Annual Report 2025’ অনুযায়ী দেশের সর্বোচ্চ ১০% মানুষ দেশের মোট বিবেচনামূলক/ পছন্দসই খরচের (discretionary spends) দুই তৃতীয়াংশের অংশীদার, এবং পরবর্তী ২৩% মানুষ এক তৃতীয়াংশের অংশীদার। অপরদিকে, সর্বনিম্ন দুই তৃতীয়াংশ (প্রায় ৬৭%) মানুষের সঞ্চয় কমছে, ফলত তাদের পছন্দমূলক খরচ নেতিবাচক (negative) বা প্রায় নেই বললেই চলে। সুতরাং, বোঝা যাচ্ছে যে আর্থিক উন্নতির কোনো প্রভাবই দেশের বেশীরভাগ সাধারণ মানুষের জন্য হচ্ছে না।
বিনিয়োগের অভাব
জিডিপির সাম্প্রতিক অগ্রগতিকে একটু খুঁটিয়ে দেখলে দেখা যাচ্ছে যে মানুষের উপভোগ (consumption) এর বৃদ্ধি মূলত মোট জিডিপিকে বাড়িয়ে চলেছে, অথচ বিনিয়োগ সেভাবে বাড়ছে না। মোট বিনিয়োগের মধ্যে আবার সরকারি বিনিয়োগ বেড়েছে (প্রধানত পরিবহন পরিকাঠামোর ক্ষেত্রে), কিন্তু বেসরকারি বিনিয়োগ ক্রমাগত স্থবির হয়ে চলেছে। স্থূল স্থির মূলধন গঠন (GFCF: Gross Fixed Capital Formation), যাকে বিনিয়োগের সূচক হিসাবে ধরা যেতে পারে, তা ২০২৪-২৫ সালে কমে দাঁড়িয়েছে জিডিপির ৭.১%-তে (২০২৩-২৪ সালে ছিল ৮.৮%)।
এটা বোঝা যাচ্ছে যে পরিকাঠামো গঠনে সরকারি বিনিয়োগ বেসরকারি বিনিয়োগকে প্রভাবিত করে বৃহত্তর অর্থনৈতিক অগ্রগতি ঘটাতে পারছে না। সুতরাং, জিডিপি বৃদ্ধির হার যা ৭% থেকে কমে ৬.৫% হয়েছে তা ভবিষ্যতে যে আরও কমবে সেটাই স্বাভাবিক। এই অবস্থায় উন্নত দেশের পর্যায়ে (‘বিকশিত ভারত’) পৌঁছাতে গেলে যে নিয়মিত অর্থনৈতিক অগ্রগতির হার (প্রায় ৮-১০%) বজায় রাখতে হবে আগামী ২৫ বছর, তা কতটা বাস্তবিক সেটা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। শাশ্বত গুহ ঠাকুরতা এবং সাথীশ্রী এস. এস. এর ২০২৫ সালে প্রকাশিত এক রিপোর্ট অনুযায়ী, আর্থিক অগ্রগতির বেশিরিভাগ সূচক হিসাবে ভারতের সর্বাধিক বৃদ্ধির হার ছিল ২০০৪-১৪ দশকে (১৯৯৪-২০০৪ বা ২০০১৪-২৪ দশকের থেকে)। উপরন্তু, ভারতের মোট বিদেশী বিনিয়োগ বাড়লেও বিশ্বের মোট FDI-তে ভারতের অংশ ক্রমাগত কমছে। তাছাড়া বিশ্বের মোট বিনিয়োগের ধারা (FDI flow) ক্রমাগত কমছে, যা গোটা বিশ্বে বিনিয়োগের এক সামগ্রিক মন্দার ধারা নির্দেশ করছে।
কর্মসংস্থান ও বেকারত্ব
ভারতে ৯০%-এরও বেশি মানুষ নিযুক্ত অসংগঠিত ক্ষেত্রে এবং ১০%-এরও কম মানুষ নিযুক্ত সংগঠিত ক্ষেত্রে। অথচ জিডিপি বৃদ্ধির বেশিরভাগটাই আসছে এই সংগঠিত ক্ষেত্র থেকে। অপরদিকে দেখা যাচ্ছে যে ভারতে শিল্পক্ষেত্র (industry/ manufacturing) কার্যত স্থবির, আর বাড়ছে প্রধানত পরিষেবা ক্ষেত্র (service sector)। উৎপাদন (manufacturing) ক্ষেত্রের বৃদ্ধির হার ১২.৩% (২০২৩-২৪) থেকে কমে হয়েছে ৪.৫% (২০২৪-২৫)। পরিষেবা ক্ষেত্রের মধ্যেও দুটি প্রধান উপক্ষেত্রেই বৃদ্ধির হার ক্রমশ কমছে। ব্যবসা-বাণিজ্য (trade and commerce) উপক্ষেত্রে বৃদ্ধির হার, যা ২০২২-২৩ সালে ছিল ১২.৩%, তা ২০২৪-২৫ সালে কমে হয়েছে ৬.১%। একইভাবে আর্থিক সেবা (financial service) উপক্ষেত্রে বৃদ্ধির হার, যা ২০২২-২৩ সালে ছিল ১০.৮% তা ২০২৪-২৫ সালে কমে দাঁড়িয়েছে ৭.২%। স্বনিযুক্তি (self-employment) ক্ষেত্রে মানুষের প্রকৃত আয় প্রায় বাড়েনি বললেই চলে।
অতএব, বৃহৎ কর্পোরেটদের বাদ দিলে সামগ্রিকভাবে বলা যেতে পারে যে ভারতে মুনাফার হার কমছে, আর শ্রমিকদের প্রকৃত মজুরি বাড়ছে না। আবার, ভারতের মোট রপ্তানি বাড়লেও ভারতকে এখনও বিভিন্ন সামগ্রীর জন্য বিদেশী আমদানির ওপর নির্ভর করতে হয়। যেমন, অপরিশোধিত তেলের প্রায় ৯০%, আর প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় ৫০% আসে বিদেশ থেকে। ভারতে বেকারত্বের হার যথেষ্ট উদ্বেগজনক, শহুরে এলাকার প্রায় ১৮% যুবক বেকার। আই.এল.ও. (ILO: International Labor Organization)-এর হিসাব অনুযায়ী ভারতে শিক্ষিত বেকারের অংশ উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে চলেছে। এছাড়াও, ভারতে কম বেতন ও ঠিকা শ্রমিকের অংশ ক্রমাগত বেড়ে চলেছে।
মানব পুঁজি গঠন (Human Capital Formulation)
ভারতের আর্থিক অগ্রগতির এক গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হল এ দেশের বৃহৎ শ্রমিক শক্তির উপস্থিতি। এ দেশের মোট জনসংখ্যার মধ্যে শ্রমিক শক্তির অংশ অন্য অনেক উন্নত দেশের থেকে অনেক বেশি। কিন্তু, দুর্ভাগ্যজনকভাবে শ্রমিক শ্রেণীর উৎপাদন ক্ষমতা ও দক্ষতা অন্য উন্নত দেশের শ্রমিকের থেকে অনেক কম। এর একটি প্রধান কারণ হল শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে সরকারি বিনিয়োগের অভাব। ভারতে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে নিয়মিতভাবে বিনিয়োগ থেকেছে জিডিপি-র মাত্র ৪%-এর নিচে। আর এই অবস্থা ক্রমাগত খারাপ হতে চলেছে কারণ দিনকে দিন সরকার শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ক্ষেত্র থেকে নিজের হাত গুটিয়ে নিচ্ছে, আর সেই ক্ষেত্রগুলোকে তুলে দিচ্ছে বেসরকারি হাতে। ফলে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে খরচ বেড়েই চলেছে। অপরদিকে, সরকার দাবি করছে যে ভারতে মূল্যবৃদ্ধির হার কমেছে এবং যথেষ্ট নিয়ন্ত্রণে আছে। কিন্তু Systematix-এর প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী তার কারণ টাকার স্থিতিশীলতা নয়। বরং, তা মানুষের স্বল্প আয় এবং তার কারণে বাজারে কম চাহিদাকেই ইঙ্গিত করছে।
উপসংহার
প্রথমত, এটা বোঝা দরকার যে জিডিপি দেশের আর্থিক অগ্রগতির একটা যথাযথ সূচক নয়। যদি একজন অন্যজনকে ১ টাকা দেয়, আর অন্যজন প্রথমজনকে সেই টাকা ফেরত দেয়, তাহলে দুজনের টাকাই জিডিপি-তে গণনা করা হয়; বিশেষত যেখানে পরোক্ষ ট্যাক্স (যেমন GST) সংগ্রহ করা হচ্ছে প্রত্যেক আর্থিক লেনদেনের জন্য, যদিও তা প্রকৃত কার্যসম্পন্ন উৎপাদনকে সঠিকভাবে বোঝাল না। দ্বিতীয়ত, ভারতের অর্থনৈতিক মডেল ক্রমাগত বৃহৎ মূলধন নির্ভর পরিষেবা ক্ষেত্রকে অনুসরণ করছে (যেমন – IT, Finance ইত্যাদি)। এই ধরনের সংগঠিত বৃহৎ পরিষেবা ক্ষেত্র জিডিপির সংখ্যা অবশ্যই বাড়িয়ে চলেছে, কিন্তু তা সেই অনুপাতে যথেষ্ট কর্মসংস্থান সৃষ্টি করছে না। অথবা বলা যেতে পারে যে জিডিপি বৃদ্ধির বেশিরভাগটাই আসছে সংগঠিত ক্ষেত্রের খুব স্বল্প কর্মসংস্থানের মধ্যে থেকে, বৃহৎ জনসাধারণের সঙ্গে তার কোনও যোগ নেই। তৃতীয়ত, ভারতে এক বিকৃত ক্রনি পুঁজিবাদ (crony capitalism) ক্রমাগত বেড়ে চলেছে, যেখানে কর্পোরেট ও রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে এক অশুভ আঁতাত দেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকে বিকৃত করে চলেছে। উদাহরণ স্বরূপ, গৌতম আদানির সম্পদ, যা ২০২০ সালে ছিল ৯ বিলিয়ন ডলার, তা ২০২২ সালে ১০০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। তৃতীয়ত, বিশ্বের বিভিন্ন অংশে (বিশেষত মধ্য প্রাচ্যে) যুদ্ধের পরিস্থিতি ভারত সহ বিভিন্ন দেশের অর্থনীতির উপর গভীর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে চলেছে। এই পরিস্থিতিতে পুঁজিবাদী অর্থনীতির ধাক্কা খাওয়া অনিবার্য। সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন করতে গেলে আজ তাই বিকল্প অর্থনৈতিক মডেল ভাবা ছাড়া গতি নেই।
কভার ফটো সৌজন্যে – https://www.statista.com/chart/31991/per-adult-pre-tax-national-income-shares-india/ [Retrieved On: 04/12/2025]

One thought on “ভারতের জিডিপি বৃদ্ধি: মিথ বনাম বাস্তবতা (দ্বিতীয় কিস্তি)”