ভারতবর্ষের জেলের মধ্যে চলমান জাতভিত্তিক বৈষম্য অবিলম্বে বন্ধ হোক

লেখাটি প্রকাশিত হয় আজাদ গণ মোর্চা-র মুখপত্র মাতৃভূমি পত্রিকার অগাস্ট ২০২৪ সংখ্যায়

গত ১০-ই জুলাই একটি জনস্বার্থ মামলার পরিপ্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্টের সর্বোচ্চ বিচারপতি পর্যন্ত বলতে বাধ্য হন যে তারা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকে নির্দেশ দিতে চায় যে যাতে রাজ্যগুলি তাদের জেল কোডে আমুল সংশোধন আনে এবং জেলের মধ্যে চলমান জাতভিত্তিক বৈষম্যকে নির্মূল করবার জন্য পদক্ষেপ নেয়।

উত্তরপ্রদেশের মত কোন কোন রাজ্য তাদের জেলের মধ্যে এই জাতভিত্তিক বৈষম্যের অস্তিত্বকে অস্বীকার করলেও, সর্বোচ্চ বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড় তাদের জেল কোড থেকে উদ্ধৃত করে দেখান যে সেখানে ‘স্ক্যাভেঞ্জার ক্লাস’ বলে টার্মের উল্লেখ রয়েছে। সেখানকার জেল কোডে একটা প্যারাগ্রাফে বলা হয়েছে, যে সমস্ত সাজাপ্রাপ্ত বন্দীরা সাধারণ সাজা খাটছেন, তাদেরকে সাধারণত নর্দমা পরিষ্কার বা জঞ্জাল পরিষ্কার এর মতো অসম্মানজনক কাজে নিয়োগ করা হবে না, যদি না তারা সেই সমস্ত শ্রেণী বা কমিউনিটির অন্তর্গত হন, যারা এই ধরনের কাজ করতে ‘অভ্যস্ত’।

সাংবাদিক সুকন্যা শান্তা ভারতবর্ষে জেলের মধ্যে জাতপাতগত বৈষম্যের অনুশীলন ধারাবাহিকভাবে চলছে – এই মর্মে অভিযোগ জানিয়ে সর্বোচ্চ আদালতে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেছেন। আবেদনকারীর পক্ষে আইনজীবী এস মুরলীধর এবং আইনজীবী প্রসন্ন এস উল্লেখ করেন যে, মধ্যপ্রদেশে যদি কোন সাজাপ্রাপ্ত বন্দী ডি নোটিফাইড উপজাতির অন্তর্গত হন, তাহলে তাকে আপনা আপনি ‘হ্যাবিচুয়াল ক্রিমিনাল’ হিসেবে গণ্য করা হয়। সর্বোচ্চ বিচারপতি এই অভিযোগকে মান্যতা দিয়ে বলেন যে, ‘এই বাস্তবতার পরিবর্তন দরকার’। সুপ্রিম কোর্ট জেলা এবং রাজ্যস্তরে লিগাল সার্ভিস অথরিটিকে ব্যবহার করে জেলগুলোতে নিয়মিত ভিজিট চালানোর পদক্ষেপ নেবার পক্ষে মতামত রেখেছেন।

এর আগে গত জানুয়ারি মাসে সুপ্রিম কোর্ট বলেছিল যে উত্তর প্রদেশ, পশ্চিমবঙ্গ, উড়িষ্যা, মহারাষ্ট্র, তামিলনাড়ু এবং কেরালা সহ দশের অধিক রাজ্যের জেল কোডে এখনো এইরকম ধারা রয়ে গেছে, যেখানে জেলের মধ্যে ‌ জাতের ভিত্তিতে বৈষম্য করা এবং বলপূর্বক কাজ করানোর পদ্ধতি বজায় রয়েছে।

আইনজীবী মুরলীধর বলেন যে, ‘শতাব্দী প্রাচীন জাতপাতগত বৈষম্যের ধারা আজও বিনা বাধায় জেলগুলোর মধ্যে চলে আসছে। কে কোন জাতের, তার ভিত্তিতে সে জেলের মধ্যে কোন লেবার করবে তা ঠিক হয়। সাম্প্রতিককালে বিভিন্ন জেল ম্যানুয়ালে অনেক কিছু সংস্কার মূলক বক্তব্য থাকলেও মনে হয় না সেই সংস্কার আজ অবধি জেলের চার দেয়ালের ভিতর প্রবেশ করতে পেরেছে।’ অনেক জায়গাতেই দলিতদের জন্য জেলের মধ্যে পৃথক ওয়ার্ড থাকে। জেল ম্যানুয়ালে পরিবর্তন হওয়া সত্ত্বেও এই ভাবেই জাতপাতগত বৈষম্য অব্যাহত থাকে। রাজ্যগুলোর জেল ম্যানুয়াল এর এইসব ধারাকে অবিলম্বে বাতিল করা উচিত।

জনস্বার্থ মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, রাজস্থান জেল কোডের ১৯৫১ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে যে মেহতার সম্প্রদায়ের বন্দীরা পায়খানা পরিষ্কারের কাজ করবে, উল্টোদিকে ব্রাহ্মণ এবং অন্যান্য উচ্চ বর্ণের হিন্দু বন্দীরা জেলে রান্নাঘরে কাজ করবে। তামিলনাড়ুর পালায়ামকোট্টাই সেন্ট্রাল জেলে থেবার, নাদার, পাল্লার সম্প্রদায়ের বন্দীদের জন্য আলাদা আলাদা ওয়ার্ড এর ব্যবস্থা করা হয়েছে, যেটা প্রমাণ করে যে আজও জেলের ভিতর বন্দীদের জন্য জাতের ভিত্তিতে ওয়ার্ড বন্টনের পদ্ধতি জারি রয়েছে।


কভার ফটো সৌজন্যেhttps://www.thehindu.com/news/national/segregation-of-work-in-prisons-on-the-basis-of-caste-unconstitutional-supreme-court/article68712436.ece [Retrieved On: 11/12/2024]

Leave a Reply