তফসিলি জাতির উপশ্রেণীকরণের রায়, বিজেপির এজেন্ডা, এবং দলিতদের ভবিষ্যৎ

আনন্দ তেলতুম্বে

scroll.in-এ, ১৮-ই অগাস্ট ২০২৪ তারিখে “Sub-categorisation verdict helps BJP’s agenda and endangers Dalit future” – শিরোনামে প্রকাশিত একটা প্রবন্ধের (লিঙ্ক নিচে দেওয়া) অংশবিশেষ

সিডিউল্‌ড কাস্ট্‌স বা তফসিলি জাতিগুলোর উপশ্রেণীকরণের [সাবক্লাসিফাই / সাবক্যাটাগোরাইজেশান] অনুমতি দিয়ে সম্প্রতি ১-লা অগাস্ট সুপ্রিম কোর্ট একটা রায় দিয়েছে, যাতে তফসিলি জাতিগুলোর “আরও অনগ্রসর” অংশগুলো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এবং সরকারি চাকরিতে সংরক্ষণের একটা বৃহত্তর অংশের সুযোগ পায়। স্বাভাবিকভাবেই এই রায়টা দলিতদের ভবিষ্যত এবং দেশের সামাজিক-রাজনৈতিক চিত্রপটে একটা সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলবে। দেশের বিদ্যমান সামাজিক বিভাজনকে গভীর করে তুলে দলিত আন্দোলনকে দুর্বল করে দিতে পারে এই রায়।

উপশ্রেণীকরণের এই সিদ্ধান্তকে বর্ণ-ভিত্তিক সংরক্ষণ কমিয়ে দেওয়া বা সম্পূর্ণ তুলে দেওয়ার দিকে একটা পদক্ষেপ হিসাবে দেখা যেতে পারে। এই পদক্ষেপ সুপ্রিম কোর্টের কাছ থেকে এলেও, এটা আসলে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস) এবং ভারতীয় জনতা পার্টি-র (বিজেপি) দীর্ঘদিনের লক্ষ্য। তাদের মতাদর্শ অনুযায়ী তফসিলি জাতিগুলো আসলে বৃহত্তর হিন্দু পরিচয়ের ধারণার মধ্যে একপ্রকারের “অশুদ্ধতা”, এবং ফলতঃ হিন্দু পরিচয়ের উপর ভিত্তি করে হিন্দু রাষ্ট্র গঠন করার তাদের যে উদ্দেশ্য, তার সামনে একটা বড় প্রতিবন্ধকতা। সেই কারণে এই প্রতিবন্ধকতাকে দূর করার যাবতীয় চেষ্টা তারা করে এসেছে।

বছরের পর বছর ধরে, বিভিন্ন রাজ্য সরকার তফসিলি জাতির উপশ্রেণীকরণ চালু করার চেষ্টা করেছে, কিন্তু তাদের প্রচেষ্টা বারবার সাংবিধানিকতার পরীক্ষায় ব্যর্থ হয়েছে। কিন্তু এই সাম্প্রতিক রায়টা এই পদক্ষেপের উপর দেশের সর্বোচ্চ আদালতের অনুমোদন নিশ্চিত করল।

উপশ্রেণীকরণের ইতিহাস

সংরক্ষণের জন্য তফসিলি জাতিদের উপশ্রেণীকরণের দাবিটা প্রথম উঠে এসেছিল ১৯৯০-এর দশকে অবিভক্ত অন্ধ্র প্রদেশের মাদিগা সম্প্রদায়ের থেকে। সংরক্ষণের সুযোগ গ্রহণ করার সময় তফসিলি জাতিগুলোর সদস্যদের একটা সমজাতীয় গোষ্ঠী হিসাবে বিবেচনা করা হয়েছিল, কিন্তু মাদিগারা জনসংখ্যায় নিজেদের অনুপাত অনুযায়ী কোটা সুবিধার সুযোগ দেওয়ার দাবিতে উপশ্রেণীকরণ চালু করার জন্য চাপ দেয়।

যাইহোক, এই বাস্তবায়ন আইনি চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছিল, বিরোধীরা যুক্তি দিয়েছিল যে এটা তফসিলি জাতির মধ্যে সমতার নীতি লঙ্ঘন করেছে। এই উপশ্রেণীকরণের পক্ষে থাকা সরকারি আদেশগুলোকে ২০০৪ সালে সুপ্রিম কোর্ট বাতিল করে দেয়, এবং নিজের রায়ে সুপ্রিম কোর্ট জানায় যে প্রথমে সংবিধান সংশোধন না করে তফসিলি জাতিদের উপ-শ্রেণীভুক্ত করার ক্ষমতা কোনও রাজ্য সরকারেরই নেই।

এই ধাক্কা সত্ত্বেও, উপশ্রেণীকরণের দাবিটা প্রতিবেশী কর্ণাটক রাজ্যেও ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে মাদিগারা হোলেয়াদের সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। তামিলনাড়ুতেও তফসিলি জাতির মধ্যে প্রভাবশালী পারাইয়ার এবং পাল্লার সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে চাকলিয়ার এবং অরুণথাথিয়াররা উপ-শ্রেণীকরণের দাবি জানায়।

বিজেপি এবং উপশ্রেণীকরণ

২০১৪ সাল পর্যন্ত, রাজনৈতিক দলগুলো জনবহুল তফসিলি জাতি সম্প্রদায়কে বিচ্ছিন্ন করার সম্ভাব্য নির্বাচনী ঝুঁকির কথা মাথায় রেখেই উপশ্রেণীকরণের দাবিকে সতর্কভাবে সমর্থন করেছিল। যাইহোক, ক্ষমতায় আসার পর, নরেন্দ্র মোদীর অধীনে বিজেপি এই ধরনের সতর্কতা বর্জন করে, এবং ধর্মীয় মেরুকরণকে নির্বাচনী লাভের জন্য একটা কেন্দ্রীয় কৌশল বানায়। মুসলিম-বিরোধী প্রচারাভিযানের মাধ্যমে বিজেপি সফলভাবে হিন্দু সমর্থনকে একত্রিত করে; অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণীগুলো হিন্দু ব্লকের সক্রিয় উপাদান হয়ে ওঠে।

দলিতরা অবশ্য বি আর আম্বেদকরের ঐতিহাসিক হিন্দুবিরোধী অবস্থানের প্রতি নিজেদের আনুগত্যের কারণে বিজেপির সামনে একটা জটিল চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। তফসিলি জাতির সবচেয়ে জনবহুল অংশটা ছিল আম্বেদকারপন্থী, কারণ আম্বেদকার ছিলেন মহারাষ্ট্রের এমনই একটা গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত। যদিও অন্যান্য সম্প্রদায়ের ক্ষেত্রে বিষয়টা তেমন ছিল না।

দলিতদের প্ররোচিত করার জন্য আরএসএস একটা দ্বিমুখী কৌশল তৈরি করেছিল। প্রথমে, তারা আম্বেদকারের প্রতি নিজেদের আনুগত্য প্রদর্শনের দাবি জানিয়ে দলিতদের আবেদন করার জন্য সামাজিক সমরসতা মঞ্চ (সামাজিক সম্প্রীতি প্ল্যাটফর্ম) চালু করে, আম্বেদকরের গেরুয়াকরণ ঘটিয়ে অসংখ্য লেখালেখি তৈরি করে এবং সেগুলোকে বিতরণ করে। এই প্রচেষ্টা দলিতদের কিছু অংশের মধ্যে আরএসএস-এর ভাবমূর্তিকে পুনর্নির্মাণ করতে সাহায্য করেছিল; আরএসএস-কে তাদের কাছে একটা দলিত-বিরোধী ব্রাহ্মণ্যবাদী শক্তি থেকে আম্বেদকরপন্থী জাতীয়তাবাদী সংগঠনে রূপান্তরিত করেছিল। দলিতদের চিন্তাভাবনার এই পরিবর্তন প্রতিফলিত হয়েছিল বিজেপির জন্য দলিত ভোটের ক্রমাগত বৃদ্ধির মধ্যে।

কিন্তু সব দলিতই যে আম্বেদকারের দর্শনের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করেন তেমনটা না। ফলস্বরূপ, অ-আম্বেদকরবাদী দলিত জাতিদের লক্ষ্য করার জন্য আরএসএস একটা দ্বিতীয় এবং আরও নিষ্ঠুর একটা কৌশল গ্রহণ করে। এই জাতিগুলোর অনেককটার মধ্যেই শিক্ষিত অংশগুলো আম্বেদকরকে নিজেদের মুক্তিদাতা হিসাবে গ্রহণ করতে শুরু করলে, বিজেপি নিজেদের সদ্য নির্মিত জাতি-ভিত্তিক বিভিন্ন সংগঠনে তাদের নেতৃত্বের ভূমিকার প্রস্তাব দিয়ে এই প্রবণতার মোকাবিলা করতে চায়। উপজাতি পরিচয়কে শক্তিশালী করার জন্য বিজেপি-আরএসএস এই ক্ষুদ্র জাতিগুলোর আইকনগুলোকে খুঁজে বের করেছিল এবং সেগুলোর প্রচার করেছিল।

আম্বেদকারপন্থী দলিতদের তুলনামূলকভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশটা দ্বারা উপেক্ষিত হয়ে থাকা এই অপ্রধান দলিত জাতিগুলো ব্রাক্ষ্মণ্যবাদী নেতাদের প্রতি আনুগত্য দেখিয়েছে। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অপ্রধান দলিত জাতিগুলো বিজেপি-র ছত্রছায়ায় আসে এবং আম্বেদকারপন্থী দলিত জাতিগুলো সংরক্ষণের বেশিরভাগ সুবিধা ভোগ করে নিচ্ছে এই যুক্তিতে তাদের প্রতি একটা অসন্তোষের বাতাবরণ তৈরি হয়। এইভাবে, ২০১৪ সালের মধ্যে বিজেপি দলিতদের ভিতরে যথেষ্টমাত্রায় পৌঁছে যেতে সমর্থ হয় এবং তফসিলি জাতির জন্য সংরক্ষিত আসনে বেশ ভালোমাত্রায় জয়লাভ করে, সংখ্যার নিরিখে যা অন্যান্য সমস্ত দলের জেতা আসনের সমষ্টির থেকেও বেশি।

সুযোগ বুঝে, অপ্রধান তফসিলি জাতিগুলোর আনুগত্যকে একজোট করার উদ্দেশ্যে বিজেপি এই উপশ্রেণীকরণের বিষয়টাকে সামনে নিয়ে আসে।

বিজেপি তার ২০১৪ এবং ২০১৯ – এই দুই নির্বাচনী ইস্তেহারেই উপশ্রেণীকরণ কার্যকর করার সিদ্ধান্তকে অন্তর্ভুক্ত করেছে। ২০১৪ সালের ইস্তেহারে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল যে সংরক্ষণের সুবিধাগুলো তফসিলি জাতির সমস্ত উপ-শ্রেণীর মধ্যে যাতে পর্যাপ্তভাবে ভাগ করা হয় সেটা নিশ্চিত করা হবে, যদিও এটা কীভাবে কার্যকর করা হবে সেই সম্পর্কে কোনও নির্দিষ্ট বিবরণ তারা দেয়নি। এই প্রতিশ্রুতির পুনরায় উল্লেখ করে ২০১৯ সালের ইস্তেহারে বিজেপি জানায় যে তফসিলি জাতিগুলোর উপশ্রেণীকরণকে যাচাই করা হবে, যাতে তফসিলি জাতিগুলোর মধ্যে দুর্বল অংশগুলো তাদের প্রাপ্য সুবিধাগুলো ঠিকঠাক পায়। এই অবস্থানটা মাদিগাদের মতো সম্প্রদায়গুলোর দাবির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যারা দীর্ঘদিন ধরে সংরক্ষণ কোটার আরও ন্যায়সঙ্গত বণ্টনের পক্ষে কথা বলে আসছে।

এই প্রতিশ্রুতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে, ২০১৭ সালে বিজেপি-নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকার অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণীর উপশ্রেণীকরণকে যাচাই করার জন্য জাস্টিস জি রোহিণী কমিশন গঠন করে, যেটা পরবর্তীকালে তফসিলি জাতিগুলোর উপশ্রেণীকরণ কার্যকর করার পক্ষে সুপারিশ করে। বিভিন্ন উপজাতির মধ্যে সংরক্ষণের সুবিধাগুলো কীভাবে আরও ভালোভাবে বণ্টন করা যায় তা খোঁজার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল কমিশনকে। মাদিগা সম্প্রদায় ও তফসিলি জাতি বিভাগের মধ্যে অন্যান্য প্রান্তিক উপ-জাতিগুলোর প্রতিনিধি সমেত বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারের সাথে সরকার আলাপ-আলোচনা চালাতে থাকে, তাদের উদ্বেগ আর দাবিগুলো বোঝার জন্য।

এই সমস্ত প্রস্তুতিমূলক কাজ সত্ত্বেও, বিজেপি নিজের অনিশ্চিত নির্বাচনী ফলাফলের কথা ভেবে এগিয়ে যাওয়ার সাহস জোগাড় করতে পারেনি। ১৯-এ জানুয়ারী ২০২৪ তারিখে, তেলেঙ্গানায় নির্বাচনী প্রচারের সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আবার তফসিলি জাতি উপশ্রেণীকরণ যাচাই করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। প্রতিক্রিয়ায়, মাদিগা রিজার্ভেশন পোরাটা সমিতি আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির প্রতি তাদের পূর্ণ সমর্থনের কথা ঘোষণা করে।

পরবর্তীকালে, কেন্দ্রীয় সরকার সারা দেশে ১২০০-টারও বেশি তফসিলি জাতির মধ্যে সবচেয়ে পিছিয়ে থাকা সম্প্রদায়ের মধ্যে বিভিন্ন সুবিধা, প্রকল্প ও উদ্যোগের ন্যায়সঙ্গত বন্টনের জন্য একটা পদ্ধতির মূল্যায়ন ও বিকাশের জন্য সচিবদের একটা পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করে।

রায়ের প্রভাব

এতে কোনও সন্দেহ থাকা উচিত নয় যে, দলিত ভোটারদের প্রকাশ্য ক্রোধের ঝুঁকি না নিয়ে বর্ণভিত্তিক সংরক্ষণের অবসান ঘটাতে বিজেপি পরিকল্পিতভাবে কাজ করছে, যা আরএসএস-এর দীর্ঘদিনের দৃষ্টিভঙ্গি।

সিডিউল্‌ড কাস্ট্‌স এবং সিডিউল্‌ড ট্রাইব্‌সদের জন্য চরম বৈষম্যমূলক মানদণ্ড ব্যবহার করে এই পার্টি ইতিমধ্যেই অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল বিভাগের জন্য ১০% সংরক্ষণ বাস্তবায়িত করেছে। এই পদক্ষেপটা স্পষ্টতই অসাংবিধানিক, কারণ সংবিধান অর্থনৈতিক অনগ্রসরতার উপর ভিত্তি করে সংরক্ষণের ব্যবস্থা করে না। দুর্ভাগ্যবশত, এটা সুপ্রিম কোর্ট দ্বারা বৈধতা পেয়েছে।

বিজেপি সরকার অনেক সাংবিধানিক বিধান লঙ্ঘন করে ডেপুটি সেক্রেটারি থেকে যুগ্ম সচিব পর্যন্ত সরকারি পদগুলোতে বেসরকারি ক্ষেত্রের বিশেষজ্ঞদের জন্য ল্যাটারাল এন্ট্রির অনুমতি দেওয়ার ব্যবস্থাও চালু করেছে। কিন্তু এই ব্যবস্থাকেও কেউ চ্যালেঞ্জ জানায়নি। নিচু জাতি এবং সংখ্যালঘুদের ৮৫% জনগণের মধ্যে থেকে এই জাতীয় বিশেষজ্ঞদের সন্ধান করার জন্য সরকারের চেষ্টা করার প্রশ্নই আসে না, কারণ সরকার বিশ্বাসই করে না যে ব্রাহ্মণ্যবাদী জাতিগুলোর বাইরে কারও যোগ্যতা থাকতে পারে।

গত নির্বাচনের সময়, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ঘোষণা করেছিলেন যে বিজেপি দল সরকার গঠন করলে উপশ্রেণীকরণকে বাস্তবায়িত করবে। সাধারণত, এর জন্য সাংবিধানিক সংশোধনীর প্রয়োজন হবে। কিন্তু সেই বিকল্প চেষ্টা করার জন্য সংসদে বিজেপির কাছে প্রয়োজনীয় সংখ্যা নেই। এমন পরিস্থিতিতে ১৮ বছর পুরনো একটা আবেদনের ভিত্তিতে সুপ্রিম কোর্টের এই রায় বিজেপিকে কোনও রাজনৈতিক ঝুঁকি নেওয়ার প্রয়োজন ছাড়াই নির্বিঘ্নে তার উদ্ধারে এগিয়ে এলো।

আর সংক্ষেপে বললে, উপশ্রেণীকরণ বিদ্যমান বিভাজনকে আরও গভীর করে তোলার, সামগ্রিক দলিত আন্দোলনকে দুর্বল করার এবং ভারতে জাতি-ভিত্তিক রাজনীতির চিত্রপটকে পরিবর্তন করার উল্লেখযোগ্য ঝুঁকি বহন করে।


মূল প্রবন্ধের লিঙ্কhttps://scroll.in/article/1072138/sub-categorisation-verdict-helps-bjps-agenda-and-endangers-dalit-future [Retrieved On: 08/10/2024]


কভার ফটো সৌজন্যেhttps://scroll.in/article/1071536/explained-supreme-court-constitution-bench-verdict-on-sub-classification-in-sc-st-reservations [Retrieved On: 08/10/2024]

Leave a Reply