২৩-২৪ বাংলার বাজেট – আমাদের কিছু কথা

লেখাটি প্রকাশিত হয় আজাদ গণ মোর্চা-র মুখপত্র মাতৃভূমি পত্রিকার এপ্রিল ২০২৪ সংখ্যায়


২০২৪, ১৭ তম লোকসভা ভোটের বছর। গত দুই দফায় বিজেপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে তাদের মতাদর্শ-গত এজেন্ডা অনুযায়ী ভারতের রাষ্ট্রীয় এবং আর্থ-সামাজিক কাঠামো দ্রুত বদলে ফেলেছে। যদিও এবছরে বিরোধীদলগুলির ঐক্যবদ্ধ ভাবে বিজেপিকে ভোটে হারানোর মত জোট করার চেষ্টা খুব সাফল্য পায় নি, রাজ্যগুলিতে বিজেপি বিরোধী শক্তিগুলির একার ক্ষমতায় ভোট গোছানর চেষ্টায় খামতি নেই। স্পষ্টই আমাদের দেশে ভোটে লড়া দলগুলির বাস্তবিক বিজেপিবিরোধী কর্মসূচি নেই। প্রত্যেকেই পুঁজির সেবাদাস, বিজেপির সাথে তাদের ফারাক কেবল ঘৃণার চরম প্রকাশে, পুঁজির দাসত্বের পরিমাপে। কর্পোরেট পুঁজি নিজেদের সুবিধা মতন দেশের শাসকদলের মুখ বদলায় মাত্র। ভোটের দামামা ঘোষণার আগে থেকেই কে কতটা গুছিয়ে নিতে পেরেছে, ভবিষ্যতে ভোটের ক্ষমতায় শাসনে এসে আখের গোছাবে, তার প্রস্তুতিপর্ব চলে।

পশ্চিমবঙ্গে ভোট

বর্তমান লেখাটি ভোট নিয়ে নয়। যেহেতু ২৩-২৪ বাজেটের প্রেক্ষাপটে ভোট রয়েছে, তাই বারবার জাতীয় রাজনীতি এবং বাংলায় তৃনমূলের আর্থ-রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বারবার প্রসঙ্গে চলে আসবে। বাংলায় প্রায় এক দশক রাজ্যসরকারে থাকা তৃনমূল এবার ইডি, সিবিআই এবং সাধারন বিক্ষুদ্ধ জনগনের জোড়া ফলায় খানিক বিপর্যস্ত। ফলে আগাম বছরগুলিতে তাকে গদিতে টিকে থাকতে হলে, ওপরে ওপরে অন্তত জন-কল্যানের ভুমিকা রাখতে হবে। বাজেটে তার শুরু।

বস্তুতঃ শাসননীতি এবং রাজনীতির বিচারে তৃনমূল এবং বিজেপি একই মুদ্রার এপিঠ এবং ওপিঠ। কে কখন বিজেপি, কে তৃনমূল হিসেব রাখা কঠিন। তবে পশ্চিমবঙ্গে তৃনমূল, অন্তত ভোটের ময়দানে বিজেপির মুখোমুখি হচ্ছে। সরকারে থাকার দরুন আপাত বিচারে তৃণমূলের অপেক্ষাকৃত সুবিধেজনক অবস্থায় থাকার কথা কারন রাজ্য সরকার পুলিশ-আমলা নিয়োগ থেকে শাসন কাঠামো অনেকটাই নিয়ন্ত্রন করে। নির্বাচন কমিশন শেষ মুহূর্তে কিছু বদল করলেও তাতে ভোটে কারচুপি আটকানো যাবে না, তা আমরা জানি।

২৩-২৪ বাজেট

২০২৪ রাজ্য বাজেটে তাই তৃণমূল মার্কা রাজনীতি ছত্রে ছত্রে। বাজেটে দান খয়রাতি নির্ভরতা যেমন আছে, পরিকাঠামো উন্নতিকল্পে রাস্তাঘাট, সেতু নির্মাণকল্পে আর্থিক নিদান আছে, আছে গ্রামীন আবাসনির্মাণ, শিক্ষাক্ষেত্রে ছাত্রছাত্রীদের সুবিধে দেওয়ার সংকল্প। আর রয়েছে জনগণের সুবিধের জন্য(!) একগুচ্ছ ভাতা এবং অনুদান।

রাজ্যসরকার কেন্দ্রীয় বঞ্চনার অভিযোগ এনেছে বারবার। বিশেষ করে ১০০ দিনের কাজ, প্রধান মন্ত্রী আবাস যোজনা ইত্যাদি উন্নয়নী প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ কেন্দ্রের টাকা ২০২১ সাল থেকে সরকারি ফান্ডে ঢুকছে না, অভিযোগ। অন্যদিকে তৃনমূলের দুর্নীতি, এবং সরকারি ফান্ডের টাকা নিয়ে নয়ছয় করার খবর সর্বজনবিদিত।

বরং সরকারি হিসেবে কি বলছে তার ঝলক কিছু দেখা যাক।

১। অর্থনৈতিক বৃদ্ধির হার গত আর্থিক বছর থেকে ১০.৫% বেড়েছে। ব্যয় বেড়েছে ১৩%। (কেন্দ্র ও অন্যান্য আর্থিক সংস্থা থেকে পাওয়া লোণ পরিশোধের হিসেব বাদ দিয়ে।)

২। আর্থিক ঘাটতি ২৩-২৪ আর্থিক বছরে হিসেবের চেয়ে ছিল ১০% বেশি। এই বছরে অনুমান করা হচ্ছে তা গিয়ে দাঁড়াবে ১৫%। প্রাথমিক ঘাটতি গত বছরে ২৬% ছিল। এই বছরে তা ৩৫% হবে।

৩। পরিকাঠামো নির্মাণ এবং সরকারি সম্পদের জন্য সরকারের ব্যয় লক্ষ্যনীয় ভাবে ২০১৫-১৬ থেকে ২০২১-২২ সময়কালে অত্যন্ত কম ছিল। বাজেটে প্রকল্পিত ব্যয়ের তুলনায় তা ছিল ৩৩% কম। ২০২২-২৩ আরও কমে গিয়ে তা দাঁড়ায় ৩৪%। আবাসন, কৃষি এবং গ্রামীন উন্নয়ন এই তিনটে ক্ষেত্র ছিল সবচেয়ে অবহেলিত জায়গা। এদের প্রতি নির্দিষ্ট বাজেটের চেয়ে গড়ে ৭০% বা তার কম ব্যয় করা হয়েছে।

৪। কৃষি ক্ষেত্রে গত আর্থিক বছরের তুলনায় সরকারি ব্যয় বাড়ানো হয়নি।যদিও তফসিলি জাতি এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জন্য ব্যয় বেড়েছে ৪৫%। প্রসঙ্গত বাংলায় বিজেপির হিন্দুয়ানির অন্যতম বড় সমর্থক তফসিলি সম্প্রদায়ের বড় অংশ। আর মুসলিম ভোট এককাট্টা করার তাগিদ তৃনমূলের ভোটের খাতিরে রয়েছে, যদিও আদপে তাদের সামগ্রিক অর্থনৈতিক বিকাশ এবং সামাজিক ন্যায়ের জন্য তৃনমুল রাজনৈতিক ভাবে আন্তরিক কিনা, সন্দেহ রয়েছে। ভোটের দিনক্ষন ঘোষণার আগে কেন্দ্র সি এ এ লাগু করেছে, অথচ রাজ্যসভায় বিল প্রস্তাব থেকে আইনি বোঝাপড়া সমস্ত সময়টাতে তৃনমূলের প্রয়াস ছিল আংশিক এবং অস্বচ্ছ। সিএএ ও এনআরসি-র মধ্যে সংযোগ আছে কিনা, থাকলেও রাজ্যের হাতে তা রদ করার আদৌ ক্ষমতা আছে কিনা, রাজনৈতিক ভাবে তৃনমূল কিভাবে উদ্বাস্তু সমস্যা দেখছে, তা একেবারেই স্পষ্ট নয়।

অন্যদিকে গ্রামীন অর্থনীতি ঐতিহাসিক ভাবে কৃষিনির্ভর। কৃষিক্ষেত্র লাভ জনক করার জন্য রাজ্যের অর্থনৈতিক হস্তক্ষেপ জরুরি। বাজেটের হিসেবে তা চরম ভাবে অনুপস্থিত। গ্রামের যুবকেরা আজ পরিযায়ী শ্রমিক। প্রতি বছর ভিন রাজ্যে পাড়ি দেওয়া গ্রামীন যুবকের সংখ্যা লাফিয়ে বাড়ছে, ১০০ দিনের কাজে কেন্দ্র বরাদ্দ অর্থ ২১ সালে দেওয়া বন্ধ করলেও বিভিন্ন রিপোর্টে তৃনমূলের দুর্নীতি এবং কাজের টাকা আত্মসাৎ করার ঘটনা সামনে এসেছে। কৃষিজ পণ্যের জন্য সরকারি মান্ডি, ন্যয্য মুল্যে কিনে নেওয়া ইত্যাদি গঠনমুলক কর্মসূচি রাজ্যসরকারের নেই, বলাই বাহুল্য। উল্টোদিকে মহাজনী অর্থনীতি ফুলে ফেঁপে উঠেছে, মাইক্রো লোণের ফাঁদে নাভিশ্বাস উঠেছে গ্রামের মানুষের।

৫। শিক্ষাক্ষেত্রে বরাদ্দ ১২% বেড়েছে। মজার কথা হোল তা ব্যয় করা হবে বেসরকারি স্কুলগুলির জন্য। ৯০০০ এর বেশী সরকারি স্কুল বন্ধ হয়ে গেল। উলটো দিকে শহরে মফঃস্বলে গ্রামে গঞ্জে ব্যাঙের ছাতার মত গজিয়ে উঠেছে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। সরকারি স্কুলের অবৈতনিক কাঠামো বাতিল করে, বিপুল টাকা ব্যয়ে শিক্ষা কেনাবেচার ব্যবস্থাকে সরকারি উৎসাহ দেওয়া হোল, বাজেটই তার প্রমান।

বাজেটে শিক্ষাব্যবস্থার ভোলবদলের জন্য কোন পরিকাঠামোর পরিকল্পনা নেই, উল্টে চালু হোল স্টুডেন্টস ক্রেডিট কার্ড, যাতে সরকারি শিক্ষকেরা ব্যাঙ্কের ঋণের জন্য দালালি করেন, ছাত্র জোগাড় করে আনেন, তার নিদান দেওয়া হোল। ছাত্রদের বকলমে উৎসাহ দেওয়া হোল কাঁড়ি টাকায় ডিগ্রি কেনার জন্য। মজার কথা হোল কার্যত স্টুডেন্টস ক্রেডিট কার্ড এবং অন্য ঋণের কোন গুনগত ফারাকই নেই। “তরুনের স্বপ্ন” প্রকল্পে ট্যাব কেনার জন্য ১১ ক্লাসে পড়া ছাত্রছাত্রীদের ১০,০০০ টাকা ২৩-২৪ বাজেটে ঘোষণা করা হয়েছে। যার যাথার্থ্য এবং উপযোগিতা উচ্চশিক্ষা এবং শিক্ষাপরবর্তী কাজের জন্য বোঝা মুস্কিল। সরকারি প্রচারে কন্যাশ্রী প্রকল্প মেয়েদের শিক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ দেখানো হলেও, আদতে মেয়েদের শিক্ষায় উৎসাহিত করার জন্য তা অত্যন্ত অপ্রতুল। গ্র্যাজুয়েটের জন্য চাকরি মানেই গিগ অর্থনীতির অংশ হওয়া, মানে ডেলিভারি বয়, সেলস ম্যান ইত্যাদি চাকরি। উচ্চশিক্ষিত যুব সম্প্রদায় হয় রাজ্যের বাইরে কাজের সন্ধানে, অথবা দিন গুনছে কবে সরকারি চাকরি, নিদেন পক্ষে তাদের উপযুক্ত কাজ শিকে ছিঁড়ে পড়বে। অর্থাৎ অমানবিক শর্তে, নামমাত্র মজুরিতে দিন গুজরানের নিদান। সরকারি চাকরি নেই। থাকলেও তার জন্য দলের সবচেয়ে ক্ষমতাবান লবির লোক হওয়া আবশ্যিক।

৬। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার আগেও চালু ছিল, এ বছর বরাদ্দ অর্থ বাড়ানো হোল। লাগু হোল বিধবা ভাতা, বার্ধক্য পেনশন, তাঁতি সম্প্রদায়ের জন্য ভাতা, মৎস্যজীবী মানুষের জন্য চালু হোল সমুদ্র সাথী। এছাড়াও রয়েছে দুয়ারে সরকার, সরাসরি মুখ্যমন্ত্রি ইত্যাদি কর্মসূচী।

আমাদের কথা

৩.৭ লক্ষ কোটি টাকার বাজেট খুঁটিয়ে দেখতে গিয়ে কয়েকটি বিষয় সামনে আসে।

১। বিগত এক দশকে রাজ্য সরকার বাজেটে বরাদ্দ অর্থের খুব ছোট অংশ, মাত্র ৩০% পরিকাঠামো এবং সরকারি পরিষেবার জন্য ব্যয় করেছে। শিক্ষা সহ অন্যান্য উৎপাদনের ক্ষেত্র যেমন কৃষি, কর্মসংস্থান এবং গ্রামন্নোয়ন ইত্যাদি খাতে পরিকাঠামোগত ব্যয় সংকোচনের জন্য ভবিষ্যৎ বিকাশ মার খেয়েছে।

দেখা গেছে রাজ্যের সিংহ ভাগ আয়(৫৭%) এসেছে সার্ভিস সেক্টর থেকে। উৎপাদন এবং শিল্পের জায়গা থেকে সরে গিয়ে সার্ভিস সেক্টরে মনোনিবেশের ফলে বাইরে থেকে আসা পুঁজির ওপর নির্ভরশীলতা বেড়েছে। উল্লেখ্য যেহেতু পরিকাঠামো এবং বৃত্তিমুখী শিক্ষার ওপর সরকারের হস্তক্ষেপ ক্রমশ কমে গেছে, তাই কর্পোরেট পুঁজি জাঁকিয়ে বসতে পারছে। আর এটাও সত্যি যে সরকার যত বেসরকারি পুঁজির ওপর নিয়ন্ত্রন কমাবে, ততই সাধারন মানুষের জীবন ওষ্ঠাগত হবে। অর্থ দিয়ে কিনতে হবে আবশ্যিক পরিষেবা, ফাটকা পুঁজির নিয়ন্ত্রনে থাকবে কাজের বাজার। কর্মচারী-শ্রমিকদের জীবন-জীবিকার কোন নিশ্চয়তাও থাকবে না।

এসমস্তই সারা দেশের চলতি চিত্র। পশ্চিমবঙ্গ তার থেকে বাইরে নয়। বরং দেরিতে হলেও বাংলা ঢুকতে চাইছে পুঁজি আকর্ষণের অবাধ প্রতিযোগিতায়। অর্থনৈতিকভাবে আলাদা করে তৃনমূলের জনমুখী, জন কল্যানের জন্য পলিসি সত্যিই নেই।

২। কমবেশী আমরা সবাই তৃনমূলের দান খয়রাতের বিরোধীতা করি। খেটে খাওয়া মানুষের হাতে ‘সার্বজনীন ন্যুনতম আয়’ এর দোহাই দিয়ে তৃনমূল সরকার খুলে দিয়েছে দানছত্র, যদিও আশু কর্মসংস্থানের জন্য সরকারি কোন কর্মসূচী বর্তমান বাজেটে চোখে পড়ে নি। আসলে, সাধারন মানুষ সরকারি দুর্নীতিতে অভ্যস্ত হলেও, সার্বিক দুর্নীতির অংশীদার হয়ে পড়ছে গত এক দশকে। মানুষের কাছে ভোটবাজ দলগুলি কিছু পাইয়ে দেওয়ার চাবিকাঠি মাত্র। তাদের আত্মমর্যাদার জন্য খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থানের দাবী যে জায়েজ, তার জন্য আলাদা করে অনুদান বা সাহায্যের প্রয়োজন নেই, একথা ইচ্ছে করেই গুলিয়ে দেওয়া হয়েছে।

১০০ দিনের কাজের জন্য দেওয়া অর্থের বিলি বন্টনে ব্যপক কারচুপি ছিল আমরা জানি, আমরা জানি কিছু জন দলের নামে খুলে বসেছে তোলাবাজির দুষ্টচক্র। পেটের খিদে, গায়ের কাপড়ের জন্য মানুষের কাছে শাসক দলের দালালিই একমাত্র আশ্রয়, দিন গুজরানের জন্য অমানবিক শর্তে খুচরো কাজ তাদের উপায়। নীরবতা সবচেয়ে বড় ঢাল।

৩। মানুষের সুস্থ ভাবে বাঁচার জন্য যা যা কিছু প্রয়োজন, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, বিধবা ভাতা, বৃদ্ধ কালীন পেনশন, কাজের অভাবে ধুঁকতে থাকা চাষি, তাঁতি, শ্রমিকদের সরকারী অনুদান বলে বিলিয়ে বোঝানো হয়েছে এসবই আসলে শর্তসাপেক্ষ।সঙ্খ্যার ধাঁধায় আমাদের বোঝানো হয়েছে, অর্থনৈতিক বৃদ্ধি হচ্ছে, অথচ লগ্নী পুঁজির কাছে বিপুল ঋণের জন্য বছরে কত লক্ষ কোটী টাকা শোধ দিতে হয়, মোট বাজেটের কতটা অংশ সেটা, তা স্পষ্ট করে কোথাও বলা নেই।

৪। পাঞ্জাবের কৃষকদের আন্দোলনে গা ভাসিয়ে থাকা আমরা প্রশ্ন করি না, সরকারের বেঁধে দেওয়া প্রতি বস্তা ধানের দাম কখনোই কেন মেলে না। কেন গ্রামে মফঃস্বলে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা মাইক্রো ক্রেডিটের সাপ্তাহিক সুদ গুনতে খরচ হয়, কেন গ্রাম উজাড় করে মানুষ পারি দেয় দূরে কাজের খোঁজে? কেন প্রত্যেক বছর স্কুলছুট বাচ্চাদের সংখ্যা লাফিয়ে বাড়ছে, কেন কলেজের ডিগ্রীর কোন দাম নেই, কেন স্কুল কলেজে এত খালি পদ থাকা সত্বেও চাকরির জন্য বছরের পর বছর ছেলে মেয়েদের বয়েস বেড়ে যায়? কেন শুধুই চুক্তিভিত্তিক কর্মী নিয়োগ হয়? কেন কাজের জীবনের কোন নিশ্চয়তা নেই? কলকাতার হাসপাতালে উপচে উঠছে রুগীর ভিড়, জেলায় জেলায় সুপার স্পেশালটি হাসপাতালের বেহাল অবস্থা কেন?

প্রশ্নগুলো অতি পরিচিত। কিন্তু উত্তর সরকারের তরফে নেই। বিজেপির ফ্যাসিবাদ, চরম ঘৃণা, দাঙ্গার রাজনীতি তাই তৃনমূল বা অন্য দলগুলির পক্ষে সম্ভবপর নয়। তাদের টিকি যেখানে বাঁধা আছে, বিজেপিও তার পক্ষেই থাকা দল। বাজেট মানে শুধু কিছু সংখ্যার হিসেব, প্রতিশ্রুতি দেওয়া নয়। আগামী বছরের পরিকল্পনা, তার মানচিত্র। আর কেনা জানে সংখ্যা দিয়ে সবচেয়ে বেশী মিথ্যে বলা যায়।


কভার ফটো সৌজন্যেhttps://www.thehindubusinessline.com/news/west-bengal-budget-state-govt-presents-34-lakh-crore-budget/article67826379.ece [Retrieved On: 26/06/2024]

Leave a Reply