প্যালেস্টাইনের স্বাধীনতা সংগ্রামের পক্ষে দাঁড়ান

বরাবরের মতো এবারও ইজরায়েল প্যালেস্টাইনের সাধারণ জনগণের উপর নির্বিচারে বোমা ফেলে চলেছে এবং হাজারে হাজারে মানুষ মেরে চলেছে, যাদের বেশির ভাগই শিশু নারী ও বৃদ্ধ। এ ঘটনা আজকে নতুন নয়, প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর থেকেই চলছে। আমাদের দেশের হিন্দুত্ববাদী ফ্যাসিস্ট শাসকরা ও গোদি মিডিয়া মুসলিম বিদ্বেষী অবস্থান থেকে আক্রমণকারী ইজরায়েলের প্রশংসা করে চলেছে।

অথচ আজ থেকে একশো বছর আগেই জর্ডন নদী থেকে ভূমধ্যসাগর এবং উত্তরে লেবানন থেকে দক্ষিনে সিনাই উপত্যকা পর্যন্ত ছিল প্যালেস্টাইন দেশটার মানচিত্র। আমেরিকান ও ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদীদের চক্রান্তে দেশটাকে দুভাগ করা হয়। সংখ্যালঘু ইহুদিদের জন্য বরাদ্দ করা হয় বেশি জমি এবং সংখ্যাগুরু আরবদের জন্য বরাদ্দ করা হয় কম জমি। তৈরি হয় দুটো দেশ, ইজরায়েল ও প্যালেস্টাইন। তার আগে সারা পৃথিবীতেই ইহুদিরা ছিল নির্যাতিত জনসমষ্টি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় হিটলারের অত্যাচারে মারা যায় ৬০ লক্ষ ইহুদি। ফলে সেই সময় বিশ্বের সংগ্রামী ও গণতান্ত্রিক মানুষদের সহানুভূতি ছিল ইহুদিদের প্রতি। কিন্তু জন্ম হবার মাত্র কয়েক ঘন্টার মধ্যেই অত্যাচারিত জাতি পরিণত হলো অত্যাচারী জাতিতে। ব্রিটেন ও আমেরিকান সাম্রাজ্যবাদীদের সরাসরি মদতে ইজরায়েল পরিণত হয় তাদের একটা সামরিক ঘাঁটিতে ও একটা গুন্ডা রাষ্ট্রে। ইজরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার রাত থেকেই তারা গায়ের জোরে আরবদের জমি দখল ও খুন করা শুরু করে। এভাবে তারা একের পর এক যুদ্ধে জিতে পুরো প্যালেস্টাইন দেশটাকেই দখল করে নেয়। ইজরায়েলের দখলদার বাহিনী পৃথিবীর মানচিত্র থেকে প্যালেস্টাইন দেশটাকেই মুছে দেয়। সংখ্যাগরিষ্ঠ আরবদের জোর করে উৎখাত করা হয় তাদের জমি থেকে। যারা নিজের দেশের মালিক ছিল তাদের স্থান হয় আশেপাশের দেশগুলির আশ্রয় শিবিরে। প্যালেস্টিনিয়ানরা উদ্বাস্ত হয়ে যে যে দেশে পেরেছে আশ্রয় নেয়। সারা বিশ্বের মেহনতি জনগণের সহানুভূতি পায় প্যালেস্টিনিয় আরবরা। গত শতাব্দীর বিশের দশক থেকে শুরু হয় প্যালেস্টিনিয়ানদের স্বাধীনতা সংগ্রাম। ষাটের দশকে এসে আল ফাতাহ গোষ্ঠী ও ইয়াসের আরাফাত এবং মার্কসবাদীদের নেতৃত্বে বিশ্বব্যাপী প্রচার ও সমর্থন পেতে থাকে। সেই সংগ্রাম আজও চলছে। হয়তো ততদিন চলবে যতদিন না প্যালেস্টাইনের শেষ ইঞ্চি জমিটুকু মার্কিন সাম্রাজ্যবাদীদের সামরিক ঘাঁটি ইজরায়েলের হাত থেকে উদ্ধার না হচ্ছে। মার্কিন সাম্রাজ্যবাদীরা যতদিন থাকবে, ইজরায়েল ও প্যালেস্টাইন- দুটি রাষ্ট্র শান্তিতে পাশাপাশি থাকার সম্ভাবনা কার্যকর হবে না। সাম্রাজ্যবাদ মানেই যুদ্ধ ও পররাজ্য গ্রাস। তাই একমাত্র সমাধান হতে পারে আরবদের ভূখণ্ড থেকে সাম্রাজ্যবাদীদের ঘাঁটি গুন্ডা রাষ্ট্র ইজরায়েলের উচ্ছেদ। ঐক্যবদ্ধ স্বাধীন সার্বভৌম ধর্মনিরপেক্ষ ও গণতান্ত্রিক প্যালেস্টাইন গঠন। ইজরায়েল সারা পৃথিবী থেকে গরিব ইহুদিদের বিনা পয়সায় জমি দেবার লোভ দেখিয়ে এনে আরবদের জমিতে পাঁচিলঘেরা ইহুদি সেটেলমেন্ট বানিয়েছে। একমাত্র সঠিক সমাধান হতে পারে ওই সেটেলমেন্টগুলিকে উচ্ছেদ করে আশেপাশের দেশগুলির ত্রাণ শিবিরে আশ্রয় নেওয়া আরব জনগণকে তাদের জমিতে ফিরিয়ে আনা। এইভাবে একটা এলাকার জনবিন্যাস বদলে দেবার সাম্রাজ্যবাদীদের চক্রান্তকে পরাস্ত করা।

আমাদের দেশের ফ্যাসিস্ট শাসকরা নিজেদের দেশের জাতি সমস্যার সমাধান করতে চাইছে ইজরায়েলের মডেলে এলাকার জনবিন্যাস বদলে দিয়ে। নিজেরা গুন্ডা বলে তাদের সমর্থন গুন্ডারাষ্ট্র ইজরায়েলের প্রতি। তাদের ঘৃণা এদেশের মুসলিম জনগণের প্রতি। তাদের গোদি মিডিয়াও নির্লজ্জভাবে ইজরায়েলকে সমর্থন করে চলেছে। আমরা এর তীব্র বিরোধিতা করছি এবং প্যালেস্টাইনের জনগণের প্রতি নিজেদের নৈতিক সমর্থন জানাচ্ছি। আমরা জনগণকে আওয়াজ তোলার আহ্বান জানাচ্ছি –

* “সিকি নয়, আধা নয়,” সম্পূর্ণ স্বাধীন ও ঐক্যবদ্ধ প্যালেস্টাইন চাই!
* মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ ও তাদের গুন্ডা রাষ্ট্র ইজরায়েল প্যালেস্টাইন থেকে হাত ওঠাও।
* সারা বিশ্বে ছড়িয়ে থাকা প্যালেস্টিনীয় উদ্বাস্তুদের প্যালেস্টাইনে তাদের জমিতে ফিরিয়ে আনতে হবে।
* দুনিয়ার জনগণের এক নম্বর শত্রু মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ ধ্বংস হোক!
* নারী শিশু বৃদ্ধ বৃদ্ধা ডাক্তার নার্স সাংবাদিক হত্যাকারী যুদ্ধ অপরাধী ইজরায়েল নিপাত যাক!
* মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের তাঁবেদার ও গুন্ডা রাষ্ট্র ইজরায়েলের সমর্থক হিন্দুত্ববাদী ফ্যাসিস্টরা ও তাদের গোদি মিডিয়া নিপাত যাক!

সংগ্রামী অভিনন্দন সহ
আজাদ গণ মোর্চা
আজাদ গণ মোর্চার পক্ষ থেকে প্রসূন কর্তৃক প্রকাশিত এবং প্রচারিত।
যোগাযোগ – 7044741252



১ নভেম্বর ২০২৩, APDR, PDSF, ISU, DYSA, WPSUF, CRPP, WORKERS INITIATIVE (SSC), NO NRC MOVEMENT, প্রতিভাষ্য, আজাদ গণ মোর্চা, সাবিম, বাংলার কৃষক শক্তি, গণ অধিকার মঞ্চ (দুর্গাপুর), সংগ্রামী কৃষক মঞ্চ, সংগ্রামী শ্রমিক মঞ্চ সহ ২১ টি সংগঠনের ডাকে প্যালেস্তাইনের স্বাধীনতা সংগ্রামের পক্ষে কলকাতার রাজপথে মিছিল সংগঠিত হয়।

মিডিয়া কভারেজ:

Leave a Reply