কর্মীদের হয়রানি করে ছাঁটাই এবং তারপর “এক টাকা তিরিশ পয়সা”-য় চাকরী বিক্রির চেষ্টা – IISER Kolkata-য় নিরাপত্তা কর্মীদের নিরাপত্তাহীন কাজের পরিবেশ

গত ২২-এ মার্চ, ২০২৩ তারিখে IISER Kolkata-তে নিরাপত্তা কর্মীরা ক্লিফোর্ড এজেন্সী-র ম্যানেজারকে ঘিরে ধরে বিক্ষোভ দেখায়। ঘটনার সূত্রপাত কয়েকদিন আগে। ৭-ই মার্চ তারিখে খোকন সরকার (নাম পরিবর্তিত) নামে এক নিরাপত্তা কর্মী কর্তৃক বর্ণালী পাল (নাম পরিবর্তিত) নামে একজন মহিলা নিরাপত্তা কর্মীর শ্লীলতাহানি-র ঘটনাকে কেন্দ্র করে একটা সমস্যা তৈরি হয়। IISER সিকিউরিটি ডেভেলপমেন্ট-এ সুপারভাইজার পোস্টে কর্মরত সুমন নস্কর-এর (নাম পরিবর্তিত) কাছে খোকন সরকার-এর নামে তিন দিন পর মৌখিক অভিযোগ জানান বর্ণালী পাল। সুমন বাবুর বয়ান অনুযায়ী তিনি বর্ণালী দেবীকে লিখিত অভিযোগ জানাতে বললে তিনি বলেন যে যা হওয়ার হয়ে গেছে, বরং জানাজানি হয়ে নিজের বদনাম হওয়ার আশঙ্কায় তিনি লিখিত অভিযোগ জানাতে চান না। সুমন বাবু ইউনিট কমান্ডার-কে ব্যাপারটা জানালে তিনিও লিখিত অভিযোগ জানানোর কথা বলেন। গত ১৮-ই মার্চ তারিখে সুমন বাবুকে এই বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কোম্পানির অফিসে ডাকা হয়। সুমন বাবু ঘটনার দিন, অর্থাৎ ৭-ই মার্চ ডিউটিতে না থাকলেও এই ব্যাপারে আভ্যন্তরীণ তদন্তে সহযোগিতা করেন এবং লিখিতভাবে নিজের বয়ান জানান।

কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো এইসবের পর সুমন বাবুকে হোয়াট্‌সঅ্যাপে অদ্ভুতভাবে একটা সাসপেনশান অর্ডারের চিঠি পাঠানো হয়, যে চিঠির সামনের পাতাও নেই, আর কোথাও সুমন বাবুর নামও উল্লেখ করা নেই। কিন্তু যে পাতাটার ছবি ওনাকে পাঠানো হয় সেখানে ৮ নম্বর পয়েন্টে এটা উল্লেখ করা ছিল – “অতএব অভিযুক্ত সংশ্লিষ্ট সুপারভাইসারকে পরবর্তী বিজ্ঞপ্তি পাওয়া অবধি কাজ থেকে সাসপেন্ড করা হলো”। শুধু তাই নয়, গত ২১-এ মার্চ তারিখে তাঁর উদ্দেশ্যে একটা ট্রান্সফার অর্ডার বের করে তাঁকে অন্য জায়গায় বদলি করে দেওয়া হয় এবং উক্ত নতুন স্থানে ২৩-এ মার্চ সকাল ৯-টা থেকে ডিউটি জয়েন করতে বলা হয়! অর্থাৎ, তাঁর সামনে এমন একটা পরিস্থিতি তৈরি করা হয় যাতে তিনি বাধ্য হয়ে চাকরীটাই ছেড়ে দেন।

ইতিমধ্যে ক্লিফোর্ড এজেন্সী-র ইউনিট কমান্ডার, যিনি স্থানীয় তৃণমূল দল ঘনিষ্ঠ হিসাবেও পরিচিত, তিনি আক্রান্ত মহিলা নিরাপত্তা কর্মী বর্ণালী দেবী-র উপর চাপ সৃষ্টি করে খোকন সরকার-এর বিরুদ্ধে থানায় ডায়েরি করান। খোকন সরকার গত ১৮-ই মার্চ থেকে সাসপেন্ড আছেন। পরে বর্ণালী দেবী সেই ডায়েরি প্রত্যাহার করে নিতে চাইলে তাঁর চাকরি কেড়ে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। ইতিমধ্যে একটা অডিও ক্লিপ সামনে আসে, যেখানে ক্লিফোর্ড এজেন্সী-র এই ইউনিট কমান্ডার-কে চাকরীসন্ধানী এক ব্যক্তির উদ্দেশ্যে টাকার বিনিমিয়ে চাকরী পাইয়ে দেওয়ার প্রস্তাব দিতে শোনা যায়। চাকরীর বদলে সাংকেতিক ভাষায় “এক টাকা তিরিশ পয়সা” “ডোনেশান শেয়ার” করার কথা বলতে শোনা যায় তাঁকে! তখন বোঝা যায় যে বিভিন্ন অজুহাতে বিদ্যমান কর্মীদের কাউকে সাসপেন্ড করে, কাউকে ট্রান্সফার করে, কারো উপর মানসিক চাপ সৃষ্টি মারফৎ চাকরী থেকে ছাঁটাই করে সেইসব শূন্যস্থানে মোটা টাকার বিনিময়ে অন্যদের চাকরী পাইয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছেন এই ইউনিট কমান্ডার।

এইসব ঘটনা সামনে আসার পর গত ২২-এ মার্চ ক্যাম্পাসে আসেন ক্লিফোর্ড এজেন্সী-র ম্যানেজার। কর্মীরা তাঁকে ঘিরে ধরে বিক্ষোভ দেখান, এবং প্রমাণ সমেত ইউনিট কমান্ডার-এর দুর্ব্যবহার ও দুর্নীতির কথা তুলে ধরেন। চীফ সিকিউরিটি অফিসার নিজে সামনে আসেন না, উল্টে পরিস্থিতি সামাল দিতে সরাসরি পুলিশ ডেকে আনা হয়। যদিও পুলিশ কোনো পদক্ষেপ নেয়নি এবং চুপচাপ ঘটনাক্রম লক্ষ্য করছিল।গোটা বিষয়ে ইউনিট কমান্ডার-এর প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে তিনি প্রথমে কিছু হুমকি দেওয়ার চেষ্টা করেন এবং তারপর ঘটনাস্থল থেকে এক প্রকার পালিয়েই যান। সেইদিন নিরাপত্তা বিভাগের বিভিন্ন অভিযোগের সাথে অগ্নি-বিভাগের কর্মীরাও অভিযোগ জানান যে চোদ্দ-পনেরো বছর চুক্তিভিত্তিক কাজ করার পরেও তাঁরা কোম্পানির থেকে কোনো সুযোগ-সুবিধা পান না। আর IISER কর্তৃপক্ষের কাছে গেলে তাঁরাও কোনো দায়িত্ব নিতে চান না। সব মিলিয়ে এই কর্মীদের এক কঠিন পরিস্থিতির ছবিই ফুটে ওঠে।

কর্মীদের এহেন অহেতুক হয়রানি এবং ইচ্ছামতো সাসপেন্ড করে দেওয়ার ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে IISER কলকাতা কনট্র্যাক্টর্স ওয়ার্কার্স ইউনিয়ন-এর সেক্রেটারীর তরফ থেকে ক্লিফোর্ড এজেন্সী-র এজিএম-অপারেশান্‌স কে চিঠি লেখা হয়েছে, এবং দুর্নীতিগ্রস্ত ইউনিট কমান্ডার-এর ইস্তফা, সাসপেন্ড করা কর্মচারীদের পুনরায় কাজে বহাল করা, কিছু ঘটলেই ক্যাম্পাসে পুলিশ ডেকে এনে কর্মীদের জন্য একটা ভয়ের বাতাবরণ তৈরি না করা ইত্যাদি সমেত পাঁচ দফা দাবি জানানো হয়েছে।

Leave a Reply