জাতীয় শিক্ষানীতি এবং পশ্চিমবঙ্গ সহ দেশব্যাপী তার রূপায়ণের বিরুদ্ধে বিভিন্ন প্রতিবাদ কর্মসূচী

নতুন শিক্ষানীতি রূপায়ণের বুলির আড়ালে আরএসএস এবং বিজেপি যেভাবে শিক্ষা ব্যবস্থার সম্পূর্ণ বেসরকারিকরণ, গৈরিকীকরণ এবং ইতিহাস পরিবর্তনের চেষ্টা চালাচ্ছে, তার বিরুদ্ধে পশ্চিমবঙ্গসহ সারা দেশে বিভিন্ন গণতান্ত্রিক ও প্রগতিশীল সংগঠন নানাভাবে তাদের বিরোধিতা জনগণের সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করছে। সেই লক্ষ্যে গত ২০ মে এপিডিআর যাদবপুর বাঘাযতীন শাখা প্রস্তুতি কমিটির উদ্যোগে কলকাতায় এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। সেখানে জাতীয় শিক্ষানীতির বিভিন্ন দিক এবং প্রগতিশীলতার বুলির আড়ালে তার ভাওতাবাজিকে উন্মোচন করে বক্তব্য রাখেন এপিডিআর-এর পক্ষে সঞ্জীব আচার্য এবং সাহানারা খাতুন।

ওই সভায় আজাদ গণ মোর্চা র সদস্য তুহিন উচ্চ শিক্ষার সংকটের বিভিন্ন দিক এবং শিক্ষার গৈরিকীকরণের বিষয়টা নিয়ে আলোচনা করেন। দক্ষিণ বিহার কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই গবেষক ছাত্র, ছাত্র সংগঠন পিএসও-র সদস্য সিদ্ধান্ত এবং বহুজন স্কলারস ফোরাম-এর সদস্য অমৃত রাজ বিহার ও উত্তরপ্রদেশে জাতীয় শিক্ষানীতির রূপায়ণ এবং দলিত ও প্রান্তিক ছাত্র-ছাত্রীদের ওপর তার প্রভাব নিয়ে আলোচনা করেন।

একইভাবে অল ইন্ডিয়া ফোরাম ফর রাইট টু এডুকেশন-এর পশ্চিমবঙ্গ শাখার আহবানে বিভিন্ন গণসংগঠন একত্রিত হয়ে ১৭ জুন কলকাতার থিওসফিক্যাল সোসাইটি হলে পাঠক্রম থেকে ডারউইন তত্ত্ব এবং পর্যায় সারণী বাদ দেবার কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে এক কনভেনশনের আয়োজন করে এই কনভেনশনে আজাদ গণ মোর্চা, এপিডিআর, পিডিএসএফ, ডব্লিউপিএসইউ এফ, ডিওয়াইএসএ, সমাজবিজ্ঞান ও প্রকৃতি পরিচয় পত্রিকা, নিষ্পলক প্রভৃতি সংগঠন অংশগ্রহণ করে। আজাদ গণ মোর্চার পক্ষে তুহিন এই বিষয়ে সংগঠনের মত সভায় বক্তব্য আকারে রাখেন।

অল ইন্ডিয়া ফোরাম ফর রাইট টু এডুকেশন-এর পশ্চিমবঙ্গ শাখাকে সক্রিয় করে তোলবার জন্য আমাদের পক্ষ থেকে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সেই লক্ষ্যে গত ১২ অগাস্ট প্রায় ২৫-টি সংগঠনের প্রতিনিধিদের নিয়ে AIFRTE-এর পশ্চিমবঙ্গ শাখার এক প্রাথমিক কমিটি তৈরি হয়েছে। এছাড়াও এপিডিআর-এর বিভিন্ন শাখা সোনারপুর, ডায়মন্ড হারবার প্রভৃতি জায়গায় জাতীয় শিক্ষানীতি নিয়ে আলোচনা সভার আয়োজন করেছে।


লেখাটি প্রকাশিত হয় আজাদ গণ মোর্চা-র মুখপত্র মাতৃভূমি পত্রিকার অগাস্ট ২০২৩ সংখ্যায়

Leave a Reply