মালিকপক্ষ ও তার প্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে জুটমিল মজদুর ইউনিয়নের সাথীদের লড়াই অব্যাহত রয়েছে

জুট মিল মজদুর ইউনিয়ন গঠনের পর থেকে এক বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেছে। প্রাথমিক অবস্থায় উলুবেড়িয়া মহকুমার সবকটি জুটমিলে শ্রমিকদের মধ্যে এই নতুন উদ্যোগ এক উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছিল। কিন্তু তার পরপরই এই ইউনিয়নের মূল সংগঠক এবং উদ্যোক্তা সাথী নিলীম বসুর আকস্মিকভাবে হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়। একটা নতুন সংগঠন, নতুন উদ্যোগের কাছে এই ধাক্কা বিশাল ধাক্কা। স্বাভাবিকভাবেই যে উদ্যমে জুটমিল মজদুর ইউনিয়নের কাজ এগুচ্ছিল বা বিস্তার ঘটছিল, তা অনেকাংশেই বিঘ্নিত হয়। তবে তারপরও নর্থ মিলের শ্রমিক সাথীরা তাদের মিলো ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন ইস্যুতে প্রতিবাদ, প্রতিরোধ জারি রেখে গেছেন। অন্যায় ভাবে শ্রমিকদের কাজ থেকে বসিয়ে দেওয়া, এক ঘণ্টা- দু ঘন্টা করে মজুরি কেটে নেওয়া, উৎপাদনের জন্য ক্রমশ চাপ বাড়ানো, সাহেব ইনচার্জদের দূর্ব্যবহার, গালিগালাজ ইত্যাদির বিরুদ্ধে, মজুরি বাড়ানোর দাবিতে তারা প্রতি দিন মিলের মধ্যে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। এইসব বিভিন্ন দাবি দাওয়া নিয়ে মিল গেটের বাইরে তারা পোস্টার মেরেছেন, তৃণমূলের ইউনিয়ন সেই দিনই পোস্টার ছিঁড়ে দিয়েছে। কিন্তু তাদেরকে হতোদ্যম করতে পারে নি। আগে মিলে লার্নারদের ৩ মাসের মধ্যে ফিট করে দিত, এখন ৪ মাস ৬ মাস করে তাদের লার্ণার অবস্হায় ফেলে রাখছে। একজন মিলহ্যান্ডস শ্রমিকের সমান কাজ করিয়ে তাদের মজুরি দিচ্ছে দৈনিক ১০০ টাকা। জুট মিল মজদুর ইউনিয়নের সাথীরা এইরকম দীর্ঘদিন ধরে লার্ণার অবস্হায় ফেলে রাখা হয়েছে, ফিট করা হচ্ছে না শ্রমিকদের একটা লিস্ট তৈরি করে অফিসে জমা দেয় এবং আওয়াজ তোলে এদেরকে এক্ষুনি ফিট করতে হবে। মিল কর্তৃপক্ষ বলে পূজোর ছুটির পর এদের ফিট করবে। যাতে পূজোর তিনদিন ছুটির মজুরি এদের দিতে না হয়। শ্রমিক সাথীরা দাবি তোলেন, পূজোর আগেই এদের ফিট করতে হবে। শেষ পর্যন্ত মিল কর্তৃপক্ষ দাবি মেনে নেয় এবং যাদের নামের তালিকা দেওয়া হয়েছিল সবাইকে লার্ণার থেকে ফিট করে এবং পূজোর ছুটির মজুরি দেয়।

নর্থ মিলের সাথীদের এই ধারাবাহিক লড়াইকে জারি রাখতে হবে এবং অন্য ডিপার্টমেন্ট ও শিফটের সব শ্রমিকদের মধ্যে এই ঐক্যবদ্ধ লড়াইয়ের চেতনাকে ছড়িয়ে দিতে হবে। তাদের এই সংগ্রামী মানসিকতা অন্যান্য মিলগুলোর শ্রমিকদেরও লড়াইতে এগিয়ে আসার সাহস যোগাবে।


লেখাটি প্রকাশিত হয় আজাদ গণ মোর্চা-র মুখপত্র মাতৃভূমি পত্রিকার অক্টোবর ২০২২ সংখ্যায়

Leave a Reply