ছাত্র ছাত্রী মঞ্চ, জলপাইগুড়ি’র আহ্বান

সাথী,

বর্তমান সময়ে আমরা গোটা দেশ ও রাজ্যজুড়ে এক ভয়াবহ বেকারত্ব সমস্যার মুখোমুখি হয়েছি। একদিকে প্রতিটি নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের আগুনছোঁয়া মূল্যবৃদ্ধি, পাশাপাশি শিক্ষিত যুবক যুবতী, শিক্ষার্থীদের পড়াশুনা শেষে ব্যাপক কাজের অভাব। বিশেষ করে করোনাকালীন লকডাউন পরবর্তী সময়ে মানুষের জীবন আরো শোচনীয়। একদিকে ক্ষমতাশীল কিছু মানুষের হাতে সম্পদের পাহাড়, অন্যদিকে বৃহৎসংখ্যক দিন আনা দিন খাওয়া গরীব, নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষগুলির শূন্য হাত, হাহাকার। কোথাও কোনো কাজ নেই ৷ কোনরকমে একটা কাজ জুটলেও সেই সামান্য অর্থে চলছে পরিবার নিয়ে বাঁচার এক অসম লড়াই। দিনরাত হাড় ভাঙা পরিশ্রম করেও নিত্যসঙ্গী যে চূড়ান্ত দারিদ্রতা তা থেকে কি আমাদের মুক্তি নেই? সাথী, আজ সময় এসেছে বোঝার, ক্ষমতা দখল করার জন্য সমস্ত দুর্নীতিবাজ, স্বৈরাচারী রাজনৈতিক দলগুলোর পরস্পরের প্রতি মারামারি, কামড়াকামড়ির নাটকের ভিড়ে চাপা পড়ে যায় আমাদের বুনিয়াদি মূল সমস্যাগুলো। আমাদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কাজের অধিকারের দাবি। সম্মানের সাথে বাঁচার দাবি। এসবই আমাদের ভবিষ্যতের প্রশ্ন।

রাজ্য ও দেশব্যাপী সামগ্রিক এই চিত্রের আরো ভয়াবহ রূপ আমাদের জলপাইগুড়ি জেলায়। আমাদের জেলার ব্যাপক অংশের কৃষক পরিবার থেকে আসা শিক্ষিত প্রজন্ম স্কুল কলেজের পড়া শেষে কেউ রাজমিস্ত্রির কাজে বাইরে চলে যায়, কেউ ছোটখাটো কারখানায় কাজ করে, কেউ টোটো চালিয়ে বা স্বল্প পুঁজিতে ছোট একটা দোকান খুলে এই ব্যবস্থার সাথে কষ্টের সাথে মানিয়ে নিয়ে চলছে। বড় অংশের যুবক যুবতী বেকার। শুধুমাত্র একটা কাজের আশায়, একটু সম্মানের সাথে মাথা তুলে বাঁচার আশায় একের পর এক চাকরির ফর্ম ফিলাপ করে হতাশ যে প্রজন্ম, এবার সময় এসেছে তাদের ঘুরে দাঁড়ানোর। সময় এসেছে দাবি তোলার প্রতি হাতে কাজ চাই, কাজের সমমর্যাদা চাই।

আগামীদিনের শোষণ-বঞ্চনা-দুর্নীতি-বিভেদ মুক্ত প্রগতিশীল সমাজ গড়ার কারিগর আজকের সৎ, মানবিক, সচেতন যুব সম্প্রদায়। তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণই পারে সমাজ পাল্টাতে। তাঁদের নিজেদের ভবিষ্যৎ বদলাতে। সমাজ বদলের জন্য প্রয়োজন জাতপাত-লিঙ্গ-ধর্ম-বর্ণ বিভেদের নোংরা রাজনীতির বিরুদ্ধে শোষণ- বঞ্চনাহীন সাম্যবাদী বিকল্প শ্রেণী রাজনীতির। আমাদের ঘরের খাবার থেকে প্রতিটি জিনিসের দাম, ভাড়া, স্কুল কলেজের মাইনে, সিলেবাস, দেশ রাজ্যের বাজেট, আমাদের প্রত্যেকের প্রতিদিনের জীবন ও ভবিষ্যৎ সমস্ত কিছুই যদি রাজনীতির মাধ্যমেই নির্ধারিত হয়, তবে আমাদেরও উচিত এই সময়ের রাজনীতি কী হবে তা নির্ধারণ করা। যে রাজনীতির স্বপ্ন দেখে স্বাধীনতা সংগ্রামী শহীদ ভগৎ সিং তাঁর লেখায় ‘তরুণ রাজনৈতিক কর্মীদের’ উদ্দেশ্যে বলেছেন- “ভাঙা কুটির থেকে শুরু করে সমস্ত কারখানা, বস্তি, এবং গ্রামের কোটি কোটি খেটে খাওয়া মানুষের মধ্যে তাদের বিপ্লবী চেতনাকে ছড়িয়ে দিতে হবে। লড়াইয়ের এই চেতনাই জনগণকে মুক্তির পথে নেতৃত্ব দেবে, এবং এক শ্রেণী কর্তৃক অপর শ্রেণীর শোষণকে অসম্ভব করে তুলবে।”

এই আদর্শকে বুকে নিয়ে সমাজ বদলের স্বপ্নে আজকের দিনে জলপাইগুড়ি জেলার তরুণ যুব সম্প্রদায়ের ভাবনা, জেলার ঐতিহ্য-সংস্কৃতি, পরিবেশ, সামাজিক, অর্থনৈতিক সমস্যার প্রতি বিশেষ দৃষ্টি রেখে আমরা গড়ে তোলার চেষ্টা করেছি ছাত্র ছাত্রী মঞ্চ,জলপাইগুড়ি। এই জেলার তরুণ ছাত্র ছাত্রী, যুবক যুবতীদের নিজস্ব সংগঠন। ইতিহাস সাক্ষী, এই ব্যবস্থা যতই প্রতিটি মানুষকে কখনো সস্তা বিনোদন, কখনো ভয় ভীতি সহ নানান ছলচাতুরির মাধ্যমে একে অপরের সমস্যা থেকে বিচ্ছিন্ন করে রাখতে চাক, একমাত্র সকলের সংগঠিত উদ্যোগই পারে সমাজ বদলাতে, নিজেদের প্রতিটি ন্যায্য অধিকার আদায় করতে। তাই সাথী, আমাদের আহ্বান আপনিও এই উদ্যোগে সামিল হোন, আলাপ আলোচনা, মত বিনিময়ে অংশ নিয়ে এই উদ্যোগকে সমৃদ্ধ করার পাশাপাশি এ লড়াই অন্যান্য সকল সাথীদের মধ্যে পৌঁছে দিন। “এ লড়াই ভয় করে না মালিক সেনা/ এ লড়াই প্রলোভনে যায় না কেনা/ এ লড়াই পিছিয়ে থাকা মানুষকে আজ পথ দেখাবে/ এ লড়াই তোমার আমার.. ভবিষ্যতের শরিক হবে।”

সংগ্রামী অভিনন্দন সহ
ছাত্র ছাত্রী মঞ্চ, জলপাইগুড়ি


প্রচারপত্রটি আমাদের হাতে এসেছে। গুরুত্ব বিচার করে আমরা প্রকাশ করলাম – সম্পাদক


লেখাটি প্রকাশিত হয় আজাদ গণ মোর্চা-র মুখপত্র মাতৃভূমি পত্রিকার অক্টোবর ২০২২ সংখ্যায়


কভার ফটো সৌজন্যেhttps://thewire.in/politics/in-defence-of-mother-india-students-movement-takes-charge [Retrieved On: 11/01/2023]

Leave a Reply