উলুবেড়িয়া মহকুমার গ্রামীণ এলাকার সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থার প্রকৃত অবস্থা

লেখাটি প্রকাশিত হয় আজাদ গণ মোর্চা-র মুখপত্র মাতৃভূমি পত্রিকার
মে ২০২৫ সংখ্যায়

চলতি বছরের শুরুর দিকে লাগাতার কয়েকটা মাস ধরে আজাদ গণ মোর্চা ও আরও দুটি সংগঠন, যথা – জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও অধিকার মঞ্চ, উলুবেড়িয়া এবং এপিডিআর উলুবেড়িয়া পাঁচলা শাখার সাথে যৌথভাবে এক সমীক্ষা ও প্রচার অভিযান চালাচ্ছে উলুবেড়িয়া মহকুমার কয়েকটি ব্লকে, শ্যামপুর ১ নং ও ২ নং, বাগনান ২ নং, উলুবেড়িয়া ২ নং এবং বাউড়িয়াতে। আমরা বিভিন্ন গ্রামীণ হাসপাতাল ও রাজ্য সাধারণ হাসপাতালে ডেপুটেশন, পোস্টারিং, লিফলেট বিতরণ, টোটো প্রচার এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথাবার্তার মাধ্যমে একদিকে যেমন ওখানকার গ্রামীণ স্বাস্থ্য ব্যবস্থার হাল কেমন – সেটা বোঝার চেষ্টা করি, পাশাপাশি আমাদের দাবিগুলোও সরকারি আধিকারিক এবং জনগণের সামনে তুলে ধরার উদ্যোগ নিই। ঝুমঝুমি, কমলপুর, মুগকল্যান, বৃন্দাবনপুর গ্রামীণ হাসপাতাল এবং বাউড়িয়া স্টেট জেনারেল হাসপাতাল ধরে এই প্রক্রিয়া চলে।

তাছাড়াও এপিডিআর উলুবেড়িয়া পাঁচলা শাখার পক্ষ থেকে একটা আরটিআই আবেদন করে গাববেড়িয়া স্টেট জেনারেল হাসপাতাল, জগৎবল্লভপুর গ্রামীণ হাসপাতাল, সাঁকরাইলের হাজি এস.টি. মল্লিক গ্রামীণ হাসপাতাল এবং উলুবেড়িয়া ১ নং ব্লকের চন্ডীপুর গ্রামীণ হাসপাতাল, পানিয়ারার কুলাই গ্রামীণ হাসপাতাল সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। ৫ মাস ব্যাপী এই প্রক্রিয়ায় জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও অধিকার মঞ্চ, উলুবেড়িয়া-র এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থেকেছে, যেহেতু তারা বিগত ৩-৪ বছর ধরে এই বিষয় নিয়ে ধারাবাহিক কাজ করে চলেছেন, ফলে তাদের অভিঞ্জতা এই গোটা সমীক্ষা ও প্রচার প্রক্রিয়ায় আমাদের পথপ্রদর্শকের কাজ করেছে।

উলুবেড়িয়া মহকুমার গ্রামীণ হাসপাতাল ও সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থার যে চিত্র আমাদের সামনে উঠে এসেছে, তার কিছু নিদর্শন এবং আমাদের পর্যবেক্ষণ এই প্রবন্ধের মাধ্যমে আমরা তুলে ধরার চেষ্টা করব।

১) আমাদের দেশের সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থার গাইডলাইন অনুযায়ী প্রত্যেক ব্লকে প্রতি ১ লক্ষ ৮০ হাজার জনসংখ্যার জন্য একটি গ্রামীণ হাসপাতাল বা ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্র থাকার কথা, যদি ব্লকের জনসংখ্যা ১ লক্ষ ৮০ হাজার ছাড়িয়ে যায়, তাহলে ব্লকের মধ্যে দ্বিতীয় গ্রামীণ হাসপাতাল বা ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্র গড়ে তোলার কথা। কিন্তু উলুবেড়িয়া মহকুমার যে কটি ব্লকে আমরা গেছি, প্রত্যেক জায়গারই জনসংখ্যা ২০১১ সালের সরকারি জনগণনা অনুযায়ী ২ লক্ষের বেশি, এতদিনে সেটা ২.৫ লক্ষ ছাড়িয়ে গেছে। কোন ব্লকে আমরা দ্বিতীয় কোন গ্রামীণ হাসপাতাল বা ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্র গড়ে তোলার উদ্যোগ দেখতে পাই নি। সরকারি আধিকারিকদের বক্তব্য, ব্লকের মধ্যে বেশ কয়েকটি প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্র এবং উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র রয়েছে – সেগুলো দিয়েই সমগ্র চিকিৎসা পরিষেবা সামলে দেওয়া যাচ্ছে, আলাদা করে দ্বিতীয় কোন গ্রামীণ হাসপাতাল বা ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্র গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা নেই!! আমরা যতটুকু দেখেছি, তাতে বলতে পারি যে গ্রামীণ হাসপাতাল নাম দেওয়া হলেও বাস্তবে যে চিকিৎসা পরিষেবা সেখানে পাওয়া যায়, তার মান হলো উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের। ফলে প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্র বা উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোর চিকিৎসা পরিষেবার হাল কি, তা সহজেই অনুমান করা যায়।

২) সরকারি স্বাস্থ্য গাইডলাইন অনুযায়ী প্রত্যেক মানুষের নিজের বসবাসের জায়গার ৫ কিলোমিটার দূরত্বের মধ্যে যথাযথ চিকিৎসার সুযোগ পাবার অধিকার রয়েছে। আমরা বেশ কয়েকটি ব্লকে, বিশেষ করে শ্যামপুর – ১ ও ২ নম্বর ব্লকে দেখেছি যে মানুষকে একদম সাধারণ চিকিৎসার জন্য, যেমন – জ্বর, পেট খারাপ, ফোঁড়া, হাড়ভাঙা ইত্যাদির ১১-১২ কিঃমিঃ দূরে গ্রামীণ হাসপাতালে আসতে হচ্ছে! তাদের নিকটবর্তী প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্র বা উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে এই চিকিৎসাগুলোও হয় না। যদি একটু কোন জটিল সমস্যা হয়, গ্রামীণ হাসপাতালগুলো থেকে রোগীকে রেফার করে দেওয়া হয় বাগনান হাসপাতালে বা উলুবেড়িয়া মেডিক্যাল কলেজে, যেগুলোর দূরত্ব ২০-২৫-৩০ কিঃমিঃ।

৩) আমরা যে হাসপাতালগুলো ভিজিট করেছি, সেগুলোতে প্রতিদিন আউটডোরে চিকিৎসার জন্য গড়ে ১৫০-২০০ জন মানুষ আসেন, এমার্জেন্সি তে গড়ে ৩০-৫০ জন মানুষ আসেন। হাসপাতালগুলোর বেড সংখ্যা গড়ে ৩০-টা (বাউড়িয়া স্টেট জেনারেল হাসপাতালে বেড সংখ্যা ৫০), কিন্তু ডাক্তারের সংখ্যা গড়ে ৪ জন!! কোন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার নেই, এমনকি চোখের ডাক্তার থাকলেও তিনি হলেন ডিপ্লোমা হোল্ডার ডাক্তার! বাউড়িয়া হাসপাতালের সুপার আমাদের জানিয়েছেন যে সেখানে এখন ৬ জন চিকিৎসক আছে,( ৩ জন স্থায়ী, ৩ জন চুক্তিতে) কিন্তু জুন মাসের পর সংখ্যাটা কমে দাঁড়াবে ৩ জনে। ফলে হাসপাতালগুলোর কাজ হলো রুগীকে রেফার করে দেওয়া, না হলে নামকে ওয়াস্তে কিছু ওষুধপত্র দিয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া। যদি কোন রুগী হাসপাতালে ভর্তি-ও হন, সেখানে অবজারভেশন ছাড়া কোন চিকিৎসা তিনি পান না।

৪) প্রত্যেকটি হাসপাতাল-ই দেখলাম বিশাল এলাকা নিয়ে গড়ে ওঠা। প্রচুর জায়গা ফাঁকা পড়ে আছে। অনেক হাসপাতালে সীমানা প্রাচীর নেই, ফলে বহিরাগতরা দিনে রাতে মদ গাঁজা জুয়ার আড্ডা বসায় সেখানে। বৃন্দাবনপুর গ্রামীণ হাসপাতাল তৈরি হয়েছে ৫০ বছর আগে। কিন্তু কোন পরিকাঠামোগত উন্নতি হয় নি। বাউড়িয়া স্টেট জেনারেল হাসপাতালের-ও একই ছবি- রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ভাঙ্গাচোরা বিল্ডিং দাঁড়িয়ে আছে, যদিও হাসপাতালের সুপারের অফিসটা ঝাঁ চকচকে, সাজানো, এসি লাগানো। উলুবেড়িয়া মহকুমার এসিএমওএইচ বললেন, চিকিৎসক নিয়োগ হোক বা পরিকাঠামোগত উন্নয়ন – এগুলো নির্ভর করে স্বাস্থ্য দপ্তরের ওপর, তাদের কোন সদিচ্ছা নেই। কখনও কখনও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা সক্রিয় হলে, তাদের এমপি, এমএলএ ল্যাডের টাকা থেকে বরাদ্দ করলে নতুন বিল্ডিং তৈরি হয় বা পুরানো বিল্ডিং মেরামত হয়। ঝুমঝুমি গ্রামীণ হাসপাতালে দেখলাম, জেলা পরিষদ এর স্বাস্থ্য কর্মাধ্যক্ষের উদ্যোগে পরিকাঠামো উন্নয়নে বেশ কিছু অর্থ বরাদ্দ হয়েছে। নতুন ওয়ার্ড তৈরি হচ্ছে, পুরো বিল্ডিং রঙ হয়েছে। ৩০০ জন বসে মিটিং করবার জন্য একটি সেমিনার রুম তৈরি হয়েছে।‌ যদিও ঐ প্রত্যন্ত অঞ্চলে ৩০০ জন বসে কিসের সেমিনার করবে – সেটা পরিষ্কার নয়। হয় পার্টি মিটিং এর জন্য ওটা তৈরি করা হয়েছে অথবা কাটমানির গল্প আছে বলে আমাদের অনুমান। বাউড়িয়া হাসপাতালের সুপার বললেন, ওখানকার বিধায়ক (২০২১-তে নির্বাচিত) আজ অবধি কখনও হাসপাতাল পরিদর্শনেও আসেন নি, অর্থ বরাদ্দ তো অনেক দূরের কথা।

৫) আমরা যে কয়টি হাসপাতালে গেছি, সব জায়গাতেই দেখলাম চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্য কর্মী, সাফাই কর্মীর ব্যাপক অভাব রয়েছে, বরাদ্দ সংখ্যার অর্ধেক চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্য কর্মী নিয়ে হাসপাতাল চলছে। সাফাই কর্মী স্থানীয়ভাবে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ করা হয়। কমলপুর বাদে সবকটা হাসপাতালের বিএমওএইচ বা সুপাররা আমাদের কাছে তাদের অসহায়তা প্রকাশ করেছেন এবং আমাদের আবেদন করেছেন যে প্রশাসনের উচ্চ মহলে চাপ সৃষ্টি করতে যাতে পর্যাপ্ত সংখ্যক চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্য কর্মী নিয়োগ করা হয়। কমলপুরের বিএমওএইচ শুধু বলেছেন যে তার কোন কিছুর অভাব নেই, সব ঠিক ঠাক আছে। যদিও ওখানকার সাধারণ মানুষ বিএমওএইচ এবং হাসপাতাল প্রশাসনের ওপর প্রচণ্ড ক্ষোভ ব্যক্ত করেন। তারা বলেন যে রাতের বেলা হাসপাতালের মেইন গেটে তালা মেরে দেওয়া হয়। কোন রুগী আসলে, ৪০-৪৫ মিনিট চিৎকার করার পর গেট খোলে। ঘটনাচক্রে আমরা ঐ হাসপাতাল ভিজিট করে আসার কয়েকদিন পরেই একজন রুগী রাতের বেলা এইভাবে গেটের বাইরে অপেক্ষা করতে করতে মারা যান। আমাদের মনে হয়েছে কমলপুরের বিএমওএইচ এর সাধারণ মানুষের প্রতি সামান্যতম দরদ নেই, চিকিৎসা পরিষেবা দেবার বিষয়েও আগ্রহ নেই। এইরকম একজন উদ্ধত ব্যক্তি কি করে বিএমওএইচ এর মত একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে রয়েছেন, এটা ভাবার মতো বিষয়।

৬) প্রায় সব হাসপাতালেই কোনো অর্থোপেডিক, কার্ডিওলজিস্ট, গ্যাসট্রোএনট্রোলজিস্ট, পেডিয়াট্রিক, গাইনোকলজিস্ট নেই। শুধুমাত্র ঝুমঝুমি হাসপাতালে ওখানকার বিএমওএইচ-এর উদ্যোগে অস্থায়ীভাবে সপ্তাহে দুদিন (সোমবার ও বুধবার) সিজার ডেলিভারি শুরু হয়েছে। তাও ওখানে কোন অ্যানাসথেসিস্ট নেই, বাগনান হাসপাতাল থেকে সপ্তাহে দুদিন করে আসেন। বাউড়িয়া হাসপাতালের সুপার সরাসরি বললেন যে এটাকে হাসপাতাল না বলে, ‘না হাসপাতাল’ বলাই ভালো, কারণ এখানে মারামারির ফার্স্ট এইড ছাড়া আর কিছু হয় না। প্রায় সব হাসপাতালেই ওটি রয়েছে, কিন্তু সার্জেন নেই বলে অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থাকে। হাসপাতালগুলোর তরফ থেকে দাবি করা হলো যে রুগীদের সব ওষুধ হাসপাতাল থেকে দেওয়া হয় এবং প্যাথোলজিকাল টেস্ট ফ্রিতে করা হয়। কিন্তু এর সত্যতা নিয়ে আমাদের সংশয় আছে। সাধারণ মানুষের-ও বক্তব্য কিছু ওষুধ পাওয়া যায়, কিছু রক্ত পরীক্ষা হয়। ঝুমঝুমি হাসপাতালে আমরা পিপিপি মডেলের প্যাথোলজিকাল সেন্টার দেখতে পেয়েছি, যেখানে বাজারের থেকে কম মূল্যে টেস্ট করা হয়, কিন্তু এটা ফ্রি নয়। ডেঙ্গু পরীক্ষার কোন ব্যবস্থা এই হাসপাতালগুলোতে নেই। নমুনা রক্ত উলুবেড়িয়া মেডিক্যাল কলেজে পাঠানো হয় – রিপোর্ট আসতে সময় লাগে গড়ে ৭ দিন। ততদিনে হয় রুগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে যায়, না হলে চিকিৎসার জন্য বেসরকারি নার্সিংহোমে ভর্তি হয়। ঝুমঝুমি হাসপাতালের বিএমওএইচ আমাদের অনুরোধ করেছেন, এই বিষয়টা নিয়ে কিছু করার জন্য, যাতে ডেঙ্গু পরীক্ষার জন্য শুধুমাত্র উলুবেড়িয়া মেডিক্যাল কলেজের মুখাপেক্ষী থাকতে না হয়, দু একটা গ্রামীণ হাসপাতালেও ডেঙ্গু পরীক্ষার পরিকাঠামো তৈরি করা হয়।

৭) তাহলে সাধারণ মানুষ এই হাসপাতালগুলোতে কি কি চিকিৎসা পান? জেনারেল মেডিসিনের ডাক্তার থাকার কারণে জ্বর, পেট খারাপ ইত্যাদি সাধারণ রোগের চিকিৎসা হয়। নর্মাল ডেলিভারি হয়। কুকুর, বিড়াল, সাপে কামড়ালে ভ্যাকসিন ও ইনট্রা ভেনাম দেওয়া হয়। শিশুদের ভ্যাকসিন হয়। তাও অনেক সময় কোন কোন ভ্যাকসিন এর সাপ্লাই না থাকলে নির্দিষ্ট সময়ে সেই ভ্যাকসিন মেলে না। বন্ধ্যাত্বকরণ হয়, প্রতিবন্ধী সার্টিফিকেট, জন্ম ও মৃত্যু সার্টিফিকেট পাওয়া যায়। টিবি র চিকিৎসা হয়। দূর্ঘটনা বা মারামারির ঘটনায় সাধারণ আহত হলে চিকিৎসার ব্যবস্থা আছে, সিরিয়াস কিছু হলে ফার্স্ট এইড দিয়ে রেফার করে দেওয়া হয়। যদিও প্রায় কোন হাসপাতালেই নিজস্ব অ্যাম্বুলেন্স ও শববাহী গাড়ি নেই। ঝুমঝুমি হাসপাতালে জেলা পরিষদ থেকে দেওয়া একটা অ্যাম্বুলেন্স আছে।

৮) সাধারণ মানুষের কি বক্তব্য? চিকিৎসা পরিষেবার হাল নিয়ে অনেকেই আমাদের কাছে বিশাল ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। হাসপাতালগুলোতে সমাজবিরোধীদের আড্ডা, মদ গাঁজা জুয়ার আসর বসা নিয়েও মানুষ অসন্তোষ জানিয়েছেন। হাসপাতালগুলোর বিভিন্ন অনিয়ম নিয়ে তারা আমাদের তথ্য সরবরাহ করেছেন। কিন্তু এগুলোর বিরুদ্ধে তাদের নিজস্ব কোন উদ্যোগ আমাদের চোখে পড়ে নি। বরং তারা বলছেন, ‘আমরা কি করব?’ আমাদের মনে হয়েছে, তারা কারুর না কারুর মুখাপেক্ষী হয়ে আছেন – যে বাইরে থেকে কেউ এসে বা কোন রাজনৈতিক দল এসে তাদের এই সমস্যাগুলো নিয়ে আন্দোলন করে সমাধান করে দেবেন।

আমাদের উপরিউক্ত পর্যবেক্ষণের ওপর ভিত্তি করে আমরা এই অঞ্চলের সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থার মান উন্নয়নের লক্ষ্যে কিছু দাবি ঠিক করেছি –

ক) অবিলম্বে হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্য কর্মীর সংখ্যা বৃদ্ধি করতে হবে এবং শয্যা সংখ্যা বাড়ানো সহ হাসপাতালগুলোর পরিকাঠামোগত উন্নয়ন করতে হবে।
খ) আউটডোরে শল্য, অস্থি, চক্ষু, স্ত্রী, শিশু ও পেটের রোগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক রাখতে হবে।
গ) সিজার ডেলিভারি সহ সাধারণ অপারেশন ধারাবাহিকভাবে চালু রাখতে হবে।
ঘ) ব্লাড স্টোরেজ ইউনিট সক্রিয় রেখে থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত রোগীদের রক্ত প্রদান করতে হবে।
ঙ) উপযুক্ত পরিকাঠামো সহ নবজাতক পরিচর্যা বিভাগ (SNCU) চালু করতে হবে।
চ) হাসপাতাল থেকে বিনামূল্যে প্রয়োজনীয় সমস্ত ঔষধ ও প্যাথলজিক্যাল টেস্ট এর ব্যবস্থা করতে হবে।
ছ) হাসপাতালের নিজস্ব এম্বুলেন্স ও পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা সহ নিয়মিত পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। চিকিৎসকদের ভিজিট নিয়মিত ও নির্ধারিত সময় করতে হবে। রোগীদের অহেতুক রেফার করা যাবে না।
জ) রোগী ও তার পরিবারের প্রতি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ব্যবহার সুষ্ঠু ও সহযোগিতামূলক হতে হবে।

আমরা মনে করি উপরোক্ত দাবিগুলোকে সামনে রেখে যদি বিভিন্ন গণসংগঠন মিলিতভাবে সাধারণ মানুষকে একজোট করতে পারে এবং লাগাতার আন্দোলন চালিয়ে যেতে পারে, একমাত্র তবেই এই অঞ্চলের সরকারি স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর কিছু মাত্রায় উন্নতি ঘটানো সম্ভব।


কভার ফটো সৌজন্যেhttps://www.anandabazar.com/west-bengal/howrah-hoogly/rural-hospital-jagatballavpur-did-not-have-proper-facilities-for-patients-1.984191#goog_rewarded [Retrieved On: 04/10/2025]

Leave a Reply