দলিত আন্দোলন এবং আরএসএস-এর আবির্ভাব

প্রারম্ভিক দলিত আন্দোলন ও আরএসএস-এর আবির্ভাব: এক অনালোচিত ইতিহাস – পর্ব ১

আনন্দ তেলতুম্বে

প্রবন্ধটি প্রকাশিত হয় The Wire পত্রিকায়, ২৫ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে।
লিঙ্ক – https://thewire.in/caste/the-rss-was-also-a-reaction-to-early-dalit-mobilisation
কভার ফটো – PTI, মূল প্রবন্ধ থেকেই নেওয়া।
প্রবন্ধটির গুরুত্ব অনুধাবন করে আমরা তার একটা বাংলা তর্জমা প্রকাশ করলাম।


ভাষান্তর – বিতান দে

অনুবাদকের বয়ান: ১৯২৫ থেকে ২০২৫। রাষ্ট্রীয় স্বয়মসেবক সঙ্ঘ, অর্থাৎ আরএসএস-এর আবির্ভাবের শতবর্ষ পূরণ হয়েছে। একশ বছর আগে এই যে বিষবৃক্ষ ভারতের মাটিতে গজিয়ে উঠেছিল, আজ তা আগাছার জঙ্গলে পরিণত হয়ে দেশের মৈত্রী, সম্প্রীতি, প্রগতি সবকিছুর সামনেই একটা অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। সাংস্কৃতিক হিন্দুত্ব প্রচারের অছিলায় এই সংগঠিনটির প্রকৃত এজেন্ডাই হলো ‘নানা ভাষা, নানা মত, নানা পরিধান’-এর বৈচিত্র্যকে শিকেয় তুলে মনুবাদী সমাজকে ফিরিয়ে আনা, পুঁজিবাদী বর্ণ হিন্দুদের হাতে ক্ষমতাকে কেন্দ্রীভূত করে অহিন্দু জনসাধারণকে দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিকে পরিণত করা। তাদের মদতপুষ্ট বিজেপি সরকারের বিগত এগারো বছরের অধিকাংশ পদক্ষেপ যেমন – নোটবন্দি, গোরক্ষা, CAA, NRC, SIR এরই সিলমোহর দেয়।


প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী ভারতে রক্তক্ষয়ী সাম্প্রদায়িক হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গার প্রেক্ষাপটে, মুসলিম আধিপত্যের সম্ভাব্য হুমকির আশঙ্কায় গড়ে ওঠা প্রতিক্রিয়াশীল হিন্দুদের একটা সংগঠন হিসাবে আরএসএস-কে দেখা হয়ে থাকে। এই ধারণাটা বাস্তব এবং ঐতিহাসিক তথ্যসমৃদ্ধ হলেও এটা অন্য একটা দৃষ্টিকোণকে আড়াল করে রাখে, যার গুরুত্ব বেশি বৈ তো কম নয়। সেটা হলো ঐ একই সময়কালে জাতপাত-বিরোধী দলিত আন্দোলনের ক্রমবর্ধমান ঢেউয়র বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া। এই ঢেউ ব্রাহ্মণ অভিজাতদের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক আধিপত্যকে এক অস্তিত্বসংকটের কিনারায় টেনে আনছিল। একদিকে মুসলিমদের রাজনৈতিক দাবি-দাওয়ার বাহ্যিক হুমকি এবং অন্যদিকে ব্রাহ্মণ্য আধিপত্যকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে নিচু জাতের জনগণের মুক্তি আন্দোলনের আভ্যন্তরীণ হুমকি – এই দুটোকেই যদি বোঝা না যায় তাহলে আরএসএস-এর আবির্ভাবকে বোঝা যাবে না।

১৯২৫ সালে আরএসএস-এর প্রতিষ্ঠা নাগপুরে—যা আজ হিন্দু জাতীয়তাবাদের মতাদর্শগত রাজধানী হিসেবে পরিগণিত হয়। দুর্ভাগ্যবশত এটাও ইতিহাসের এক জ্বলন্ত পরিহাস। বিশ শতকের গোড়ার নাগপুর কেবল মধ্যভারতের একটা প্রাদেশিক শহরই ছিল না; এটা ছিল পশ্চিম ভারতের শুদ্র জাগরণের কেন্দ্রস্থলও। জ্যোতিবা ফুলের সত্যশোধক সমাজ-এর বিস্তার, অ-ব্রাহ্মণ আন্দোলনের উত্থান এবং দলিত রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রাথমিক চোরাস্রোতের সাক্ষী ছিল এই বিদর্ভ এলাকাটা। অতএব, হিন্দু ঐক্যের রঙ্গমঞ্চ তো নয়ই; বরং নাগপুরের প্রসিদ্ধি ছিল জাত-সংঘাত এবং ব্রাহ্মণ্যবিরোধী আন্দোলনের এক সূচনাক্ষেত্র। এই প্রেক্ষাপটেই, আরএসএস-এর হিন্দু একতার গল্পটাকে পড়া উচিৎ, যেটা যত না হিন্দু পরিচিতি পুনর্গঠনের উদ্যোগ ছিল তার থেকে বেশি ছিল একটা কৌশলগত প্রতিবিপ্লব। তাদের মূল উদ্দেশ্যই ছিল মুসলিমদের দাবি-দাওয়া এবং দলিত/অ-ব্রাহ্মণদের সংগঠিত শক্তির এই দ্বৈত চ্যালেঞ্জকে নিষ্ক্রিয় করা।

আরএসএস-এর আবির্ভাবের পূর্বে বিদর্ভে দলিত আন্দোলনের উত্তাপ

এবার ইতিহাসের সরণি বেয়ে ওই সময়টায় পিছিয়ে যাওয়া যাক। ঔপনিবেশিক যুগে তখন বিদর্ভ অঞ্চলে মাহার সম্প্রদায়ের বহু মানুষ আর্থিকভাবে উন্নতি অর্জন করেছেন এবং স্বাভাবিকভাবেই তাঁরা নিজেদের সামাজিক উন্নয়নের দিকেও অগ্রসর হচ্ছেন। ১৮৮৪ সাল থেকেই ক্রমান্বয়ে ঘটে যাওয়া এই ঘটনাক্রমকে এম. এল. কোসারে তাঁর দলিত আন্দোলন সম্পর্কিত ঐতিহাসিক গবেষণায় প্রামাণ্য তথ্য সমেত পেশ করেছেন। তাঁর বয়ান অনুযায়ী তখন বিদর্ভ জুড়ে মাহার সম্প্রদায়ের একটা সক্রিয় নেটওয়ার্ক গড়ে উঠেছিল, যা সমাজকল্যাণ ও সংস্কারমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিল। এর পাশাপাশি, এই সংগঠনটা হিন্দু সমাজের কাঠামোর মধ্যেই আইনসম্মত উপায়ে অস্পৃশ্যদের দুর্দশা ও মানবাধিকারের বিষয়ে সচেতনতাও গড়ে তুলছিল। কিষান ফাগোজি বানসোড়ের মতো বহু বিশিষ্ট স্থানীয় নেতা এই কাজে নেতৃত্ব দেন। একই সঙ্গে, পশ্চিম মহারাষ্ট্রের (কোঙ্কন) মহাত্মা ফুলে, গোপাল বাবা ওয়ালাংকর এবং শিবরাম জানবা কাম্বলের নেতৃত্বাধীন সমান্তরাল নেটওয়ার্কগুলোও এইরকম কাজে সক্রিয় ছিল। মাহার নেতৃত্বের মধ্যে ভিত্তাল রামজি শিন্দেরও বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য অনুসারী গোষ্ঠী গড়ে উঠেছিল।

ধীরে ধীরে উনবিংশ শতাব্দীর শেষ দিক থেকে বিদর্ভ হয়ে ওঠে সত্যশোধক আন্দোলনের এক অগ্নিকেন্দ্র। ফুলের নেতৃত্বে ক্রমেই এই আন্দোলন আগ্রাসী ভূমিকা নিয়ে ব্রাহ্মণ্য আধিপত্যকে অস্বীকার করে সবার জন্য সাম্যবাদী সমাজের কথা প্রচার করতে থাকে। জাতভিত্তিক শ্রেণীবিন্যাসের বিরুদ্ধে ফুলের মৌলিক সমালোচনা এই অঞ্চলের শূদ্র ও দলিত সম্প্রদায়ের মধ্যে গভীর সাড়া ফেলে। তাঁর অনুসারীরা নাগপুর, অমরাবতী ও ওয়ার্ধার মারাঠি ভাষাভাষী জেলাগুলিতে সত্যশোধক সমাজ-এর শাখা প্রতিষ্ঠা করেন এবং শিক্ষা, যুক্তিবাদ ও সামাজিক সমতার লক্ষ্যে কর্মসূচিকে এগিয়ে নিয়ে যান।

১৯০৮ সালে ভিত্তাল রাওজি মুন পান্ডে নামে একজন পুরনো ধারার সমাজসংস্কারক, মাহার সভা প্রতিষ্ঠা করেন, যা আম্বেদকর-পূর্ব দলিত আন্দোলনের একটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সংগঠন হয়ে ওঠে। এই সভা ১৯১৩ সালের ১৩-১৫ এপ্রিল নাগপুরের টাউন হলে এক ঐতিহাসিক সম্মেলনের আয়োজন করে, যেখানে সমগ্র মারাঠি ভাষাভাষী অঞ্চলের বিভিন্ন সম্প্রদায়ের নেতারা অংশগ্রহণ করেন। সভাটিতে শুধু মালগুজার, মহাজন, ঠিকাদার, দালাল, কাঠ ব্যবসায়ী, পাটোয়ারি, কেরানি, শিক্ষক, সাধু, পুরোহিত, শেঠি এবং অন্যান্য সচ্ছল মাহাররাই ছিলেন না, বরং উপস্থিত ছিলেন পুনের শিবরাম জানবা কাম্বলে, মুম্বাইয়ের ধোন্ডিবা নারায়ণ গাইকওয়াড়, নাসিকের ধর্মদাস সন্ত, এবং পাঁধরপুরের বাপুজি পান্ডের মতো বিশিষ্ট ব্যক্তিরাও।

১৯১০ ও ১৯২০-এর দশকে জাতবিরোধী আন্দোলনের একটা কেন্দ্রে পরিণত হয় বিদর্ভ। শিক্ষায় সমানাধিকার, মন্দিরে প্রবেশাধিকার ও নাগরিক অধিকারের সামাজিক দাবিতে একটা গণআন্দোলন দানা বাঁধতে থাকে, একজন জাতীয় নেতা হিসেবে আম্বেদকরের আবির্ভাবের কয়েক দশক আগে থেকেই। শিন্দের ডিপ্রেস্‌ড ক্লাসেস মিশন এবং নাগপুরে মাহার ও মাং সম্প্রদায়ের মধ্যে বানসোড়ের সমাজসংস্কারমূলক কাজকর্মের মধ্যে ক্রমবর্ধমান চেতনার ছবি প্রতিফলিত হতে দেখা যায়। নৈতিক সংস্কার এবং রাজনৈতিক কর্মসূচীর মাধ্যমে সামাজিক সাম্য অর্জনের চেষ্টা করছিলেন তাঁরা। ঐ একই সময়, স্থানীয় ভাষায় প্রকাশিত পুস্তিকা ও স্থানীয় সভাগুলিতে প্রশাসন ও শিক্ষাক্ষেত্রে ব্রাহ্মণ্য আধিপত্যের তীব্র সমালোচনা করা হচ্ছিল। এই সবকিছুর মধ্যেই পশ্চিম মহারাষ্ট্রের বৃহত্তর অ-ব্রাহ্মণ আন্দোলনের একটা প্রতিচ্ছবি পাওয়া যাচ্ছিল।

এই সামাজিক অস্থিরতা ঐতিহ্যবাহী ব্রাহ্মণ্য শাসনব্যবস্থাকে বিচলিত করে তোলে। নিচু জাতের এই ক্রমাগত জাগরণ—ধর্মীয় ও জাতীয়তাবাদী উভয় ক্ষেত্রেই—ব্রাহ্মণ নেতৃত্বের সামাজিক বৈধতাকে প্রশ্ন করতে শুরু করেছিল। ১৯২০-এর দশকের শুরুতেই নাগপুরের উঁচু জাতের অভিজাত সমাজে এক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। শিক্ষা, আচারধর্মীয় কর্তৃত্ব ও জাতীয় রাজনীতিতে তাদের একচেটিয়া আধিপত্য একসাথে দুটো দিক থেকে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছিলো—ভিতর থেকে দলিত ও শূদ্র আন্দোলনের চাপ এবং বাইরে থেকে মুসলিমদের রাজনৈতিক দাবি-দাওয়ার চাপ।

আইনসভার সংস্কার : উচ্চবর্ণের সিঁদুরে মেঘ

এবার দেখা যাক ওই সময়ে ব্রিটিশ ভারতের আইনসভার সার্বিক চিত্রটা কেমন ছিল। ১৯০৯ সালের মরলে-মিন্টো সংস্কার ভারতীয় রাজনৈতিক ইতিহাসে একটা গুরুত্বপূর্ণ মোর নিয়ে আসে। এই সংস্কারের মাধ্যমে শুধু যে মুসলমানদের জন্য পৃথক নির্বাচনী আসনের স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছিল তা-ই নয়, উপরন্তু মুসলিম লিগের এই দাবিও মেনে নেওয়া হয়েছিল যে – অস্পৃশ্য ও আদিবাসী উপজাতি সম্প্রদায়গুলোকে হিন্দু হিসেবে গণনা করা উচিত নয় । এর ফলস্বরূপ, ১৯১১ সালের জনগণনায় হিন্দু জনসংখ্যাকে তিনটি শ্রেণিতে বিভক্ত করা হয় – হিন্দু, ডিপ্রেস্‌ড ক্লাসেস, এবং প্রকৃতিবাদী (Animist) হিন্দু (আদিবাসী উপজাতি)। এইভাবে তথাকথিত হিন্দু সমাজের অভ্যন্তরে বহুকাল যাবৎ শিকড় গেড়ে থাকা বিভাজনকে প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

এতে ব্রাক্ষণ্যবাদী নেতৃত্ব গভীরভাবে বিচলিত হয়ে ওঠে। তাদের দীর্ঘদিনের ধারণা ছিল, ব্রিটিশরা ভারত ছেড়ে গেলে অখণ্ড ভারতের রাজনৈতিক ক্ষমতা স্বাভাবিকভাবেই তাদের হাতে চলে আসবে। আতঙ্ক আরও বাড়ে যখন গোদের ওপর বিষফোঁড়ার মতো আসন্ন মন্টেগু-চেমসফোর্ড সংস্কার-এর (১৯১৯) মাধ্যমে ক্ষমতার অতিরিক্ত বিকেন্দ্রীকরণের প্রতিশ্রুতি দেয় ব্রিটিশ সরকার। বেগতিক দেখে কংগ্রেস ও মুসলিম লিগ ১৯১৬ সালের লখনউ চুক্তির মাধ্যমে একটা ঐক্যবদ্ধ অবস্থান প্রদর্শনের চেষ্টা করে। এই চুক্তি মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য আলাদা নির্বাচনীক্ষেত্রের স্বীকৃতি দেয়, যার অন্তর্নিহিত অর্থ ছিল ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের ধারণাকে বৈধতা দেওয়া।

তবে এই ঘটনার অন্যরকম পরিণতি দেখা দেয়। কংগ্রেসের কাছে এটা পরিষ্কার হয়ে যায় যে, যেন তেন প্রকারেন ডিপ্রেস্‌ড ক্লাসেসদের হিন্দু সমাজের অন্তর্ভুক্ত রাখতেই হবে—নইলে মুসলিম লিগের তুলনায় তাদের রাজনৈতিক সংখ্যা ও রাজনৈতিক শক্তি দুর্বল হয়ে পড়বে। ফলত মন্টেগু-চেমসফোর্ড সংস্কার অসাবধানতাবশত প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রটাকে হিন্দু-মুসলমান বাইনারি অতিক্রম করে আরো অনেক দূর প্রসারিত করে দেয়। একবার যখন সম্প্রদায়ভিত্তিক প্রতিনিধিত্বের নীতি অনুমোদন পেয়ে গেল, তখন ডিপ্রেস্‌ড ক্লাসেসরাও নিজেদের জন্য ন্যায্যভাবে পৃথক রাজনৈতিক স্বীকৃতির দাবি তুলতে পারল। কংগ্রেসের রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ সম্পূর্ণরূপে বিপর্যস্ত করে দেওয়ার একটা সম্ভাবনা তৈরি হল।

লখনউ চুক্তির অব্যবহিত পরেই, বোম্বে প্রদেশের ডিপ্রেস্‌ড ক্লাসেসদের সংগঠনগুলো পৃথক প্রতিনিধিত্ব, অস্পৃশ্যতা বিলোপ, এবং শিক্ষা ও সরকারি চাকরিতে প্রবেশাধিকারের দাবি তুলতে শুরু করে। ঠেলায় পড়ে ১৯১৭ থেকে ১৯২০ সালের মধ্যে, কংগ্রেসের উদ্যোগে মহারাষ্ট্রে ডিপ্রেস্‌ড ক্লাসেসদের অন্তত চারটে বড় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে লোকমান্য তিলকসহ বহু বিশিষ্ট নেতা উপস্থিত ছিলেন। এই সম্মেলনগুলোতে যেসমস্ত দাবি উঠেছিল তা সরাসরি হিন্দু সমাজ ব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ করেছিল, যেমন – সংরক্ষিত আসন, মন্দিরে প্রবেশাধিকার, এবং জাতভিত্তিক বৈষম্যের অপসারণ। কিন্তু এই সংস্কারগুলো করার ব্যাপারে কংগ্রেসের উচ্চবর্ণীয় নেতৃত্ব মোটেই আগ্রহী ছিল না। সব মিলিয়ে ব্রাহ্মণ্য শিবিরে তীব্র উদ্বেগ দেখা দেয়, কারণ তারা এই আন্দোলনগুলিকে তাদের সামাজিক আধিপত্য ও রাজনৈতিক কর্তৃত্বের প্রতি সরাসরি হুমকি হিসেবে দেখতে শুরু করেছিল।

বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ মুহূর্তটি আসে ১৯২০ সালের মে মাসে নাগপুরে অনুষ্ঠিত ডিপ্রেস্‌ড ক্লাসেস সম্মেলনে, যার আহ্বায়ক ছিলেন কোলহাপুরের শাহু মহারাজ। বিদর্ভ অঞ্চলে দলিত নেতৃত্বের ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক পরিপক্বতার প্রতিফলন পাওয়া গিয়েছিল এই সম্মেলনে। এখানেই তরুণ বি. আর. আম্বেদকর (যিনি তখনও বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব হয়ে ওঠেননি) এক জ্বালাময়ী বক্তৃতা দেন এবং দৃপ্তকণ্ঠে ঘোষণা করেন যে অস্পৃশ্যদের মুক্তি অর্জন করতে হবে অস্পৃশ্যদের নিজেদের দ্বারাই। তাঁর এই বক্তব্যটা উঁচু জাতের পিতৃসুলভ নিয়ন্ত্রণ থেকে আলাদা একটা আলোকবর্তিকার সন্ধান এনে দেয় এবং একটা স্বতন্ত্র দলিত রাজনৈতিক চেতনার আবির্ভাব ঘটায়, যা শীঘ্রই ভারতীয় রাজনীতির চাকাকে নতুন পথে চালিত করে।

(বাকি অংশ আগামী পর্বে)


মূল প্রবন্ধ এবং কভার ফটো সৌজন্যেhttps://thewire.in/caste/the-rss-was-also-a-reaction-to-early-dalit-mobilisation [Retrieved On: 22/11/2025]

2 thoughts on “প্রারম্ভিক দলিত আন্দোলন ও আরএসএস-এর আবির্ভাব: এক অনালোচিত ইতিহাস – পর্ব ১

Leave a Reply