পৃথিবীর বৃহত্তম গণতন্ত্রের কাণ্ডকারখানা বড়ই অদ্ভুত। এখানে একদিকে অসৎভাবে কোটি কোটি টাকা কামিয়ে, বা বলা ভালো লুঠ করে, প্রভাবশালী ধনকুবেররা দেশের বাইরে পালিয়ে যান; কেউ তাঁদের টিকিটিও ছুঁতে পারেন না। আবার অন্যদিকে পরিবারের দেখভাল করা, ছেলেমেয়েদের পড়াশোনা শিখিয়ে বড় করা ইত্যাদির তাগিদে যাঁরা রাস্তার ধারে ফুটপাথে কিছু একটা ফেরি করে সৎভাবে যৎসামান্য টাকাপয়সা উপার্জন করার চেষ্টা করেন সেই হকারদের উপর বিভিন্ন অজুহাতে চড়াও হয় পুলিশ। যত দিন এগোচ্ছে, উন্নয়নের জোয়ারে শহরের রাস্তাঘাটে হকারদের টিকে থাকাটা ততই কঠিন হয়ে উঠছে। একই ছবি দেখতে পাওয়া যাচ্ছে দেশের সর্বত্র। শিলং শহরও তার ব্যতিক্রম নয়। মাঝেমাঝেই শিলং মিউনিসিপাল বোর্ড (এসএমবি) শহরের আনাচে-কানাচে হকারদের উপর নিজেদের জোরজুলুম চালায়। বড় শপিং মল বা অন্য কোনো বড় প্রকল্পের কারণে স্থায়ী উচ্ছেদ ছাড়াও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে যেটা হয় সেটা হলো সাময়িক উচ্ছেদ, অতঃপর কিছু ঘুষ দিয়ে আবার নিজেদের জায়গা ফিরে পাওয়া, এবং আবার ভবিষ্যতে কোনো একদিন একই রকম হয়রানির জন্য অপেক্ষা করা। তবে এই ধরনের হয়রানি বেড়ে চলার পাশাপাশি প্রতিরোধের ছবিও অবশ্য দেখতে পাওয়া যায়। এই প্রবন্ধে আমরা শিলং শহরের প্রেক্ষাপটে হকারদের হয়রানি ও পাল্টা প্রতিরোধ নিয়েই আলোচনা করব।
১৯৯০-এর দশক থেকে নয়া-উদারনৈতিক উন্নয়নের জোয়ারে গা ভাসানোর পর দেশের শহরগুলো মূলত অভিজাত পুঁজিপতি শ্রেণীর ও প্রভাবশালী রাজনীতিবিদদের লীলাক্ষেত্রতে পরিণত হয়েছে। সেখানে হকারদের দৈনন্দিন জীবন-সংগ্রাম নিয়ে মাথা ঘামানোর মতো সময় কারো নেই। এমনকি চুঁয়ে পড়া অর্থনীতির ক্ষীর খেয়ে বেড়ে ওঠা উচ্চ-মধ্যবিত্ত শ্রেণীর চিন্তাভাবনাতেও হকাররা হলেন সমস্যা – কারণ, হকারদের জন্য তাঁদের রাস্তাঘাটে চলতে অসুবিধে হয়, তাঁদের সেলফি তোলার জন্য ব্যাকগ্রাউন্ডে শহরের যে সৌন্দার্যায়ন প্রয়োজন তা বাধাপ্রাপ্ত হয়। তাই এসবের মাঝে হকারদের জীবন-জীবিকা রক্ষার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে পাস হওয়া স্ট্রীট ভেন্ডর্স (প্রোটেকশান অফ লাইভ্লিহুড অ্যান্ড রেগুলেশান অফ স্ট্রীট ভেন্ডিং) অ্যাক্ট ২০১৪ আইনটা বেশ গুরুত্বপূর্ণ একটা অর্জন। এই অর্জনের পিছনে ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশান অফ স্ট্রীট ভেন্ডর্স ইন ইন্ডিয়া এবং ন্যশনাল হকার্স ফেডারেশান-এর মতো সংগঠনের বেশ ভালো ভূমিকা ছিল। ভেন্ডিং বা ফেরি করাকে জীবিকা অর্জনের বৈধ উপায় ও একটা অধিকার হিসাবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে এই আইনে। সাথে স্ট্রীট ভেন্ডর, ভেন্ডিং এলাকা ইত্যাদির যথাযথ সংজ্ঞা উল্লেখ করে দেওয়া হয়েছে যাতে সেগুলোর ব্যাখ্যা নিয়ে কোনো রকম সমস্যা তৈরি না হয়। একটা টাউন ভেন্ডিং কমিটি (টিভিসি) তৈরি করার বিধান দেওয়া হয়েছে এই আইনে, এবং এই কমিটির হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ক্ষমতা। যেমন – এক একটা ভেন্ডিং এলাকায় প্রতি পাঁচ বছরে অন্তত একবার করে সমীক্ষা চালিয়ে সেখানকার সমস্ত স্ট্রীট ভেন্ডরদের চিহ্নিত করা এবং তাঁদের জন্য শংসাপত্র ইস্যু করা। এমনকি স্থানীয় কর্তৃপক্ষ যদি মনে করে যে কোনো এলাকায় কোনো জনহিতিকর প্রকল্পের জন্য সেখান থেকে ফেরিওয়ালাদের অন্যত্র স্থানান্তরিত করবে তাহলে তারও অনুমোদন নিতে হবে এই টিভিসি-র থেকে।
এই আইনে উচ্ছেদের বিরুদ্ধে স্ট্রীট ভেন্ডরদের বেশ কিছু রক্ষাকবচ স্পষ্ট করে উল্লেখ করা হয়েছে। যেমন – কর্তৃপক্ষ যদি কোনো ভেন্ডরকে তাঁর শংসাপত্রে উল্লেখ করা জায়গা থেকে উচ্ছেদ বা অন্যত্র স্থানান্তরিত করতে চায় তাহলে সেক্ষেত্রে সেই ভেন্ডরকে ত্রিশ দিনের আগাম নোটিশ দিতে হবে। উচ্ছেদের সময় যদি জোর করে ভেন্ডরের থেকে কোনো সামগ্রী বাজেয়াপ্ত করা হয় তাহলে তার একটা যথাযথ তালিকা সেই ভেন্ডরকে দিতে হবে, এবং যিনি বাজেয়াপ্ত করেছেন তাঁর সই থাকতে হবে সেই তালিকায়। প্রযোজ্য ক্ষেত্রে নির্দ্দিষ্ট ক্ষতিপূরণ দিয়ে সেই ভেন্ডর নিজের সামগ্রী ফেরত পেতে পারেন। নষ্ট হয়ে যায় না এমন সামগ্রীর ক্ষেত্রে ভেন্ডরের দাবি জানানোর দুই কর্মদিনের মধ্যে এবং নষ্ট হয়ে যায় এমন সামগ্রীর ক্ষেত্রে সেই দিনের মধ্যেই বাজেয়াপ্ত করা সামগ্রী ফেরত দিতে হবে। আইনে স্পষ্ট বলা হয়েছে যে টিভিসি-কর্তৃক ইস্যু করা শংসাপত্র অনুযায়ী ভেন্ডর যদি ভেন্ডিং-এর কাজকর্ম চালান তাহলে তাঁকে পুলিশ বা অন্যান্য কর্তৃপক্ষ অন্য কোনো আইনের অজুহাতেও হয়রান করতে পারবে না। এটাও বলা আছে যে টিভিসি-র তত্ত্বাবধানে যতদিন না সমীক্ষা শেষ হচ্ছে ততদিন কোনো স্ট্রীট ভেন্ডরকে উচ্ছেদ বা স্থানান্তরিত করা যাবে না। বর্তমানে যেহেতু সব জায়গায় টিভিসি গঠন হয়নি বা হলেও সমীক্ষা করা হয়নি তাই এই বিধানটা স্ট্রীট ভেন্ডর ও হকারদের কাছে একটা গুরুত্বপূর্ণ রক্ষাকবচ।
কেন্দ্রীয় আইন পাস হওয়ার আট মাস পরে মেঘালয় রাজ্যের তরফে ‘মেঘালয় স্টেট ভেন্ডর (প্রোটেকশান অফ লাইভ্লিহুড অ্যান্ড রেগুলেশান অফ স্ট্রীট ভেন্ডিং) অ্যাক্ট ২০১৪’ নামে একটা আইন পাস করা হয়। এর মুখ্য উদ্দেশ্য ছিল কেন্দ্রীয় আইনে দেওয়া সুরক্ষাকবচগুলোকে বিভিন্ন উপায়ে শিথিল ও অস্বীকার করা। যেমন – এই স্টেট আইন দ্বারা টিভিসি-র স্বায়ত্তশাসনে হস্তক্ষেপ করার একটা চেষ্টা করা হয়েছিল। হকারদের জীবন-জীবিকা রক্ষার বিপরীতে তাঁদেরকে শহর থেকে দূর করার একটা পরিকল্পনা করা হয়েছিল। কেন্দ্রীয় আইন থেকে অনেক কিছু সরাসরি নকল করা হলেও স্ট্রীট ভেন্ডরদের পক্ষে থাকা বিধানগুলোকে এমনভাবে বিকৃত করা হয়েছিল যাতে তাঁদের অধিকার খর্ব হয়। ফলে অনেক ক্ষেত্রেই বিভিন্ন বিধানের মধ্যে বৈপরীত্যের সৃষ্টি হয়। সরকারের মেহনতি শ্রেণী-বিরোধী দৃষ্টিভঙ্গিরই প্রতিফলন পাওয়া যায় এই স্টেট আইনে। ‘মেঘালয় অ্যান্ড গ্রেটার শিলং প্রোগ্রেসিভ হকার্স অ্যান্ড স্ট্রীট ভেন্ডর্স অ্যাসোসিয়েশান’ (সংক্ষেপে মেঘালয় হকার্স অ্যাসোসিয়েশান) নামক হকারদের এক সংগঠনের তরফ থেকে এই স্টেট আইনকে মেঘালয় হাইকোর্টে চ্যালেঞ্জ জানানো হয়। গত বছর মেঘালয় হাইকোর্ট রায় দেয় যে রাজ্য সরকারের আইনটাকে বাতিল করা হবে এবং কেন্দ্রীয় আইনটাই মেনে চলা হবে। এটাও বলা হয় যে রাজ্যের আইন বাতিল করার পর কেন্দ্রীয় আইনের সাথে সামঞ্জস্য রেখে রাজ্যের পরিস্থিতি অনুযায়ী কিছু নিয়ম তৈরি করা হবে। সম্প্রতি সেই নিয়মগুলোর একটা খসড়া তৈরি করা হয়েছে এবং উপদেশের জন্য জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়েছে।
শিলং-এর সরকারও এখন চাইছে যত শীঘ্র সম্ভব এই সমীক্ষা পরিচালনা করতে। সরকারের সবসময়ই কিছু ধূর্ত উদ্দেশ্য থাকে। তাই মেঘালয় হকার্স অ্যাসোসিয়েশান নিজের চোখ-কান খোলা রেখেছে। তাদের তরফে ডিজিটাল প্রযুক্তির সাহায্য এই সমীক্ষা করার দাবি জানানো হয়েছে, যাতে সবকিছুর একটা যথাযথ রেকর্ড থাকে এবং প্রত্যেক ভেন্ডরের যেন একটা করে ইউনিক আইডি তৈরি হয়। ফলে ভেন্ডিং-এর শংসাপত্র ও অন্যান্য দরকারি কাগজের ছবি বা পিডিএফ নিজের স্মার্টফোনে সহজেই রেখে দেওয়া যাবে বা নিজের স্মার্টফোন না থাকলে অন্য কারো স্মার্টফোন থেকে একটা নির্দ্দিষ্ট অ্যাপে ইউনিক আইডি-র মাধ্যমে চট করে ডাউনলোডও করে নেওয়া যাবে। পুলিশ বা কর্তৃপক্ষের হয়রানির সামনে এটা বেশ কার্যকরী হবে বলেই মনে করা হচ্ছে। এছাড়াও, এই আইনের সাথে সামঞ্জস্য রেখে সংগঠনের তরফে সমীক্ষার মধ্যে যেসমস্ত তথ্যগুলো সংগ্রহ করার কথা বলা হয়েছে সেগুলো হলো –
১) সমীক্ষার তারিখ
২) ভেন্ডরের ব্যক্তিগত তথ্য, যেমন – নাম, বাবা/মা/স্বামী-র নাম, বয়স, জন্মতারিখ, লিঙ্গ, ক্যাটাগরি (এসসি/এসটি/ওবিসি/জেনারেল) , ভিন্নভাবে সক্ষম কিনা, আধার সংক্রান্ত তথ্য, পরিচয়পত্র, বিধবা বা বিপত্নীক কিনা, মোবাইল নম্বর, শিক্ষাগত যোগ্যতা, বাসস্থানের ঠিকানা, বার্ষিক আয়, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত তথ্য ইত্যাদি।
৩) ভেন্ডরের পরিবার সংক্রান্ত তথ্য – পরিবারের মালিকানাধীন জমি বা অন্যান্য স্থায়ী সম্পদের হিসাব, পরিবারের সদস্যদের নাম, বয়স, সম্পর্ক, আধার নম্বর, পেশা, পরিবারের কোনো সদস্য একই রকম কোনো সমীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছেন কিনা ইত্যাদি তথ্য। আইন অনুযায়ী কোনো স্ট্রীট ভেন্ডরের মৃত্যুর ক্ষেত্রে তাঁর স্ত্রী/স্বামী/সন্তান তাঁর জায়গায় ভেন্ডিং চালাতে পারে, যতদিন তাঁর শংসাপত্রের মেয়াদ থাকবে ততদিন। তাই ভেন্ডরের ব্যক্তিগত তথ্যের সাথে পরিবার-সংক্রান্ত তথ্যও সমীক্ষার সময় সংগ্রহ করা প্রয়োজন।
৪) ভেন্ডিং-সংক্রান্ত তথ্য, যেমন – ভেন্ডিং-এর সঠিক জায়গা, ওয়ার্ড, স্ট্রীট ভেন্ডর-এর প্রকৃতি (যেমন – ষ্টেশনারী, মোবাইল, পেরিপ্যাতেটিক, হেড লোড ইত্যাদি), ভেন্ডিং-এর প্রকৃতি (যেমন – দৈনন্দিন, সাপ্তাহিক, উৎসবের ব্যাজার, মেলার ব্যাজার ইত্যাদি), ভেন্ডর কিছু জিনিস বিক্রি করেন নাকি কোনো পরিষেবা প্রদান করেন, সপ্তাহের দিন হিসাবে কোনদিন কখন তিনি কাজ শুরু করেন আর কখন কাজ শেষ করেন, কত বছর ধরে ওই জায়গায় তিনি ফেরি করছেন এবং তার সমর্থনে যদি কোনো দলিল থাকে তাহলে সেটা আপলোড করার ব্যবস্থা, ভেন্ডিং-এর স্যাটেলাইট লোকেশান (এক বা একাধিক, যেখানে প্রযোজ্য) ইত্যাদি। ভেন্ডর ও ভেন্ডিং-এর প্রকৃতির ক্ষেত্রে স্থানীয় পরিস্থিতি অনুযায়ী টিভিসি-র তরফে অন্যান্য পছন্দের সুপারিশও করা যাবে।
৫) সরকারের পিএম স্বনিধি, ই-শ্রম ও অন্যান্য অনুরূপ কোনো প্রকল্পের মধ্যে ভেন্ডর নথিভুক্ত কিনা সেই তথ্য।
অনেক ইতিবাচক দিক থাকলেও প্রত্যেক আইনের মতো এই আইনেরও কিছু ফাঁকফোকর আছে। দেশের অন্যান্য জায়গার অভিজ্ঞতা থেকে কিছু বিষয় উল্লেখ করা যেতে পারে। যেমন – ভেন্ডিং এলাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা। কর্তৃপক্ষ চাইলে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা হচ্ছে না এই অজুহাতে কোনো ভেন্ডরকে হয়রান করতেই পারে, কারণ এগুলোর সেভাবে কোনো মাপকাঠি হয় না। সমীক্ষার ক্ষেত্রে সরকার সবসময় চেষ্টা করে ভেন্ডরদের মোবাইল ভেন্ডর হিসাবে দেখাতে, যাতে তাঁরা নিজেদের ভেন্ডিং-এর স্থান হিসাবে কোনো নির্দ্দিষ্ট জায়গায় দাবি না জানাতে পারেন। এছাড়াও, যেহেতু টিভিসি-র হাতে যথেষ্ট ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে তাই সরকার সবসময় চেষ্টা করে যান তেন প্রকারেণ টিভিসি-র সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করতে। মেঘালয় এর ক্ষেত্রে একটা অস্থায়ী টিভিসি গঠিত হয়েছে, যেখানে মেঘালয় হকার সংগঠনেরও কিছু সদস্য আছেন। তাঁদের অভিজ্ঞতা হলো টিভিসি-র মিটিংগুলোতে সরকারের তরফের প্রতিনিধিরা অনেকক্ষেত্রেই হিন্দি বা ইংরাজি ভাষাকে হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করেন, যা স্থানীয় জনগণের ক্ষেত্রে এক এক সময় অসুবিধের সৃষ্টি করে। কিন্তু মেঘালয় হকার সংগঠনের সদস্যরা সক্রিয়ভাবে এই জাতীয় প্রবণতাগুলোর বিরুদ্ধে লড়াই চালান টিভিসি-র মধ্যে। এছাড়া এই সংগঠনের একটা বড় শক্তি হলো এর সদস্যদের জনতাত্ত্বিক বৈচিত্র্য। স্থানীয় খাসি-গারো-জয়ন্তিয়া এই তিন উপজাতির হকার ছাড়াও বিহারী, বাঙালি, নেপালি, অহমীয়া ইত্যাদি বিভিন্ন জাতীয়তার হকারদের নিয়েই গঠিত হয়েছে এই সংগঠন। সাত বছর পুরনো এই সংগঠনের মধ্যে হিন্দু-মুসলিম-শিখ-খ্রিষ্টান সমস্ত ধর্মের মানুষেরই শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান লক্ষ্য করা যায়। তাঁদের একটাই ধর্ম – তাঁরা সকলেই মেহনতি মানুষ। শিলং শহর নিজেও ঐতিহাসিকভাবে বহুজাতিক একটা শহর; বিভিন্ন জাতি-ধর্মের মানুষ এখানে বসবাস করেন আধুনিক ভারত রাষ্ট্রের জন্মের আগে থেকেই। এই শহরের সেই বৈশিষ্ট্যের প্রতিচ্ছবিই যেন খুঁজে পাওয়া যায় এই সংগঠনের মধ্যে। আর এই বৈশিষ্ট্যটাই হলো শাসকশ্রেণীর বিরুদ্ধে মেহনতি মানুষের লড়াইতে মেঘালয় হকার্স অ্যাসোসিয়েশান-এর একটা জোরের জায়গা। আশা করা যায় আগামী দিনেও তারা নিজেদের অধিকারের লড়াই একইভাবে জারি রাখবে।
লেখাটি প্রকাশিত হয় আজাদ গণ মোর্চা-র মুখপত্র মাতৃভূমি পত্রিকার অগাস্ট ২০২৩ সংখ্যায়
